পাহাড়ে কুল চাষে কৃষকদের ভাগ্য বদল

ছবি: নিজস্ব

বলসুন্দরী-ভারতসুন্দরী জাতে লাভজনক ফলন, আয় বেড়েছে কয়েক গুণ।

অসীম রায় (অশ্বিনী): তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে বলসুন্দরী, ভারতসুন্দরী, আপেল, কাশ্মীরি ও নারকেলীসহ উন্নত জাতের কুল চাষ দ্রুত বাড়ছে। স্বল্প পরিশ্রমে উচ্চ ফলন ও ভালো বাজারমূল্যের কারণে জুমচাষ ছেড়ে অনেক কৃষক এখন বাণিজ্যিক কুল চাষে সফলতা পাচ্ছেন।

বান্দরবান সদর উপজেলার রেইচা সাতকমল পাড়ায় তঞ্চঙ্গ্যা তিন ভাই রাজুময়, সাজুময় ও দীপ্তিময় ২০২৩ সালের শুরুতে পৈতৃক পাঁচ একর পাহাড়ি জমিতে প্রায় ৯০০ বলসুন্দরী কুলের কলম চারা রোপণ করেন। খুলনার পাইকগাছা থেকে অনলাইনে সংগ্রহ করা এ চারাগুলোতে বর্তমানে দুই হাজারের বেশি গাছ রয়েছে। গত মৌসুমে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব সত্ত্বেও তাঁরা ৬ লাখ টাকার কুল বিক্রি করেছিলেন। পরিবেশ অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে ফলন চার গুণ বেড়েছে এবং প্রায় ২২ লাখ টাকার বিক্রির প্রত্যাশা করছেন দীপ্তিময় তঞ্চঙ্গ্যা।

রাঙামাটি সদর উপজেলার বালুখালী ইউনিয়নের বসন্তমোনপাড়ায় ৬২ বছর বয়সী নীলকান্ত চাকমা চার বছর আগে দুর্গম পাহাড়ি ঢালে প্রায় তিন একর জমিতে বরই বাগান গড়ে তোলেন। সমতল থেকে ৭০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এ বাগানে বলসুন্দরী, ভারতসুন্দরী, আপেল, কাশ্মীরি, নারকেলী ও বাউকুল জাত রয়েছে। বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় জেনারেটর দিয়ে নিচ থেকে পানি তুলে পরিচর্যা করা হলেও চলতি বছর বরই থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি। অন্য ফলসহ মোট বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টাকায়। আগে জুমচাষ করে বছরে মাত্র দুই লাখ টাকা আয় করতেন।

খাগড়াছড়ির লেমুছড়ি এলাকায় শিক্ষক ছোটমনি চাকমাসহ অনেকে শিক্ষকতা ও অন্য পেশার পাশাপাশি বলসুন্দরী ও ভারতসুন্দরী চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। একেকটি গাছ থেকে ৩০-৪০ কেজি ফলন পাওয়া যাচ্ছে। রোপণের আট মাসের মাথায় ফল আসায় চাষিরা এটিকে অল্প সময়ে লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচনা করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাহাড়ি ভূমির জন্য কুল চাষ অত্যন্ত উপযোগী। ফলের স্বাদ মিষ্টি ও বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় চাষিদের আরও উৎসাহিত করা হচ্ছে। বান্দরবানে প্রায় ১৫০০ হেক্টর এবং রাঙামাটিতে ৮১৩ হেক্টর জমিতে কুলের আবাদ চলছে।