তেল সংকটের আগাম বার্তা: মজুদ বাড়াতে; সতর্ক করেছিল টুইটনিউজ২৪

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির, বাংলাদেশের সামনে কৌশলগত সিদ্ধান্তের মুহূর্ত।

বিশেষ প্রতিবেদন: মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭৭–৭৯ ডলার প্রতি ব্যারেলের ঘরে ঘোরাফেরা করছে।

সরবরাহ শৃঙ্খল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত। কৌশলগত জলপথ Strait of Hormuz–এ জাহাজ চলাচল নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় বাজারে ‘রিস্ক প্রিমিয়াম’ যুক্ত হচ্ছে—যার অভিঘাত আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপর সরাসরি পড়ছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। দেশের ৯০ শতাংশের বেশি জ্বালানি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ৫ ডলার মূল্যবৃদ্ধিই আমদানি বিলে শত শত মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।

রিজার্ভ, ভর্তুকি, বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতি—সব সূচকে সমান্তরাল চাপের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য যে, টুইটনিউজ২৪ কয়েক সপ্তাহ (বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬) আগেই বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে সতর্ক করেছিল—“আন্তর্জাতিক বাজার তুলনামূলক নিম্নমুখী থাকতেই কৌশলগত তেল মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।” তখন ব্রেন্ট ৭০–৭২ ডলারের পরিসরে ছিল; ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি স্পষ্ট হলেও বাজার তা পুরোপুরি মূল্যায়ন করেনি।

আমাদের সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে সামান্য উত্তেজনাও সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত করতে পারে এবং দ্রুত মূল্যস্ফীতির ঢেউ তৈরি করতে পারে—যা আজ বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

বর্তমানে সরকার মার্চ মাসে খুচরা জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রেখেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজার ১০০ ডলারের ঘরে প্রবেশ করলে ভর্তুকির বোঝা বহুগুণ বাড়বে—এতে বাজেট ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়বে। জ্বালানি ব্যয় বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়বে, শিল্পে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে, পরিবহন খরচের মাধ্যমে খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হবে। অর্থনীতির বহুমাত্রিক চাপে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা।

এখন প্রশ্ন—কী করা উচিত? জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে কৌশলগত মজুদ বাড়ানো, সরবরাহ উৎস বৈচিত্র্যকরণ, দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতিতে জোর দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রাখা ও রপ্তানিমুখী শিল্পকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

সার্বিকভাবে, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি; তবে ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে।

টুইটনিউজ২৪ আগেই যে সতর্কবার্তা দিয়েছিল—“মূল্য বাড়ার আগেই মজুদ”—তা আজ নীতিনির্ধারকদের জন্য আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

সময়োপযোগী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ সম্ভাব্য জ্বালানি-ঝড় কতটা দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে পারবে।

পড়ুন বিস্তা‌রিত-বাংলাদেশের জন্য তেলের মজুদ বাড়ানো এখনই সময়