ইরানের ড্রোন হামলায় সৌদি আরামকোর রাস তানুরা শোধনাগার সাময়িক বন্ধ

ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার ছাড়াল
টুইট ডেস্ক: সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো তার সবচেয়ে বড় শোধনাগার রাস তানুরায় ইরানের ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।
রয়টার্স, ব্লুমবার্গ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সূত্রে জানা গেছে, দুটি ড্রোন আকাশপথে আটকানো হয়েছে, ধ্বংসাবশেষের কারণে সীমিত আগুন লেগেছিল যা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আল আরাবিয়া টেলিভিশনে জানিয়েছেন।
রাস তানুরা শোধনাগারটি দৈনিক ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং সৌদি তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। আরামকোর মিডিয়া অফিস এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তীব্রভাবে বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮-৮০ ডলারে পৌঁছেছে—যা গত কয়েক বছরের সর্বোচ্চ স্তর। আজ সকালে দাম ৮-১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ট্রেডিং ইকোনমিক্স ও ব্লুমবার্গ জানিয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম (নিউইয়র্ক টাইমস, গার্ডিয়ান, রয়টার্স) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি এবং সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই-আবু ধাবি), কাতার (দোহা), কুয়েত, বাহরাইনসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণালী বন্ধ করেনি, কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকি ও জাহাজে হামলার আশঙ্কায় জাহাজ মালিকরা চলাচল স্থগিত রেখেছেন। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা বাংলাদেশসহ আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করেছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশী।
সূত্র: রয়টার্স, ব্লুমবার্গ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, নিউইয়র্ক টাইমস, ট্রেডিং ইকোনমিক্স।






