ইরানের চিফ অব স্টাফসহ শীর্ষ কমান্ডাররা নিহত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আবদুলরহিম মৌসাভিসহ শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মৃত্যুর দাবি; তেহরানে ৪০ দিনের শোক।
টুইট প্রতিবেদক: ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুলরহিম মৌসাভি নিহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করেছে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি অন্যান্য কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে নিহত হন বলে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে বলা হয়, তেহরানে একটি প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠক চলাকালে হামলাটি সংঘটিত হয়। একই হামলায় নিহতদের তালিকায় রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর এবং সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আলী শামখানি।
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করে দেশটির তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি। পৃথক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলায় খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলায় স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
প্রতিক্রিয়া ও পরিস্থিতি
ইরান সরকার ইতোমধ্যে ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এ হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হামলার বিষয়ে সরাসরি বিস্তারিত জানায়নি, তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ‘উচ্চ সতর্কতায়’ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের একযোগে নিহত হওয়ার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে সামরিক সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। সর্বশেষ তথ্যের জন্য আন্তর্জাতিক ও ইরানি নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।






