ইরানের প্রতিশোধ: ২৭ মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

ইরানি ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের প্রতিশোধ অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে; যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সতর্ক।

টুইট প্রতিবেদক: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। খামেনির সঙ্গে ইরানের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ও বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডাররা নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

ইরান ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি দিয়েছে। খামেনির হত্যার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ২৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, যা ইরানের ইতিহাসে “সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অভিযান” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হামলার লক্ষ্যবস্তুতে কাতারের আল উদাইদ, বাহরাইনের নৌবহর সদরদপ্তর, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা, কুয়েতের আলি আল সালেম এবং তেল আবিবের ইসরায়েলি বিমান ঘাঁটি ও কমান্ড কেন্দ্র রয়েছে। দুবাই, দোহা ও মানামায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র হামলার তথ্য স্বীকার করেছে, তবে তাদের ঘাঁটিতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, “ইরান যদি আমাদের বা ইসরায়েলকে আক্রমণ করে, আমরা এমন শক্তি দিয়ে আঘাত করব যা আগে কখনো দেখা যায়নি।” তিনি খামেনির মৃত্যুকে “ইরানের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসামরিক লোকের নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলেছে, এটি “ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে তীব্র প্রতিশোধ অভিযান”। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে আর্থিক বাজার, তেলের সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি প্রভাবিত হতে পারে।