ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হচ্ছেন?

খামেনির মৃত্যুর পর উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা, আলোচনায় পাঁচ প্রভাবশালী আলেম ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব
টুইট ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন তা নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে এখন পর্যন্ত পাঁচজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম সামনে এসেছে।
মোজতাবা খামেনি আলোচনার কেন্দ্রে
৫৬ বছর বয়সী মোজতাবা খামেনি বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার দ্বিতীয় পুত্র। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর ওপর তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে শিয়া শাসনব্যবস্থায় পারিবারিক উত্তরাধিকারকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং উচ্চ পর্যায়ের ধর্মীয় পণ্ডিত হিসেবে স্বীকৃতি না থাকায় তার পথ সহজ নয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদও নেই।
আলীরেজা আরাফি: খামেনির আস্থাভাজন আলেম
৬৭ বছর বয়সী আলীরেজা আরাফি একজন প্রতিষ্ঠিত ইসলামি পণ্ডিত এবং খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তিনি বর্তমানে ইরানের আলেম পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য। এছাড়া দেশটির মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তবে রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে তার প্রভাব তুলনামূলক সীমিত।
কট্টরপন্থি আলেম মিরবাঘেরি
৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি ইরানের রক্ষণশীল আলেমদের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি কেন্দ্রীয় আলেম পরিষদের সদস্য এবং কোম শহরের বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির প্রধান। পশ্চিমা বিশ্বের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই আলেম আদর্শিকভাবে কঠোর অবস্থানের জন্য আলোচনায় রয়েছেন।
খোমেনি পরিবারের উত্তরসূরি হাসান খোমেনি
৫০ বছর বয়সী হাসান খোমেনি ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। বর্তমানে তিনি খোমেনির সমাধিসৌধের প্রধান রক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রশাসনিক বা সামরিক কাঠামোয় শক্ত অবস্থান না থাকলেও তুলনামূলক মধ্যপন্থী ভাবমূর্তির কারণে তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাশেম হোসেইনি বুশেহরি আলোচনায়
জ্যেষ্ঠ ইসলামি পণ্ডিত হাশেম হোসেইনি বুশেহরি আলেম পরিষদের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান এবং উত্তরাধিকার কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। খামেনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার প্রভাব সীমিত বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচন করে বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts)। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে রাজনৈতিক সমীকরণ, ধর্মীয় মর্যাদা এবং ক্ষমতাকাঠামোর সমর্থনের ওপর।






