ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের তীব্র প্রতিবাদ

সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ; উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার।

টুইট প্রতি‌বেদক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের হামলা কাতারের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।

কাতারের সরকারি বার্তা সংস্থা কিউএনএ প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন সালেহ আল খুলাইফি পাকিস্তান, সিরিয়া ও সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপ করেন। আলোচনায় অংশ নেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইশাক দার, সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল শিবানি এবং সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কনস্টানটিনোস কম্বোস।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কাতারের ভূখণ্ডে আঘাত হানা আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশী সম্পর্কের নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

প্রতিমন্ত্রী আল খুলাইফি বলেন, কাতার দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে এসেছে এবং ইরানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে। কিন্তু কাতারের ভূখণ্ডে হামলা সেই আস্থার পরিপন্থী এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তিনি অবিলম্বে সব ধরনের সামরিক উত্তেজনা বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে পাকিস্তান, সিরিয়া ও সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে একে কাতারের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা জাতিসংঘ সনদ অনুসরণ এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শ‌নিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এর মধ্যে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা আল উদেইদ বিমানঘাঁটি এলাকাও লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে জানানো হয়।

কাতারের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করলেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত আটজন আহত হন। ঘটনার পর কাতার সরকার ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণের ঘোষণা দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

সংবাদসূত্র: কাতার নিউজ এজেন্সি (QNA), কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল বিবৃতি।