প্রায় ২০০ যুদ্ধবিমান নিয়ে ইরানে ইতিহাসের বৃহত্তম হামলা

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্রতর: আকাশে পশ্চিমা জোটের আধিপত্য, অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। 

টুইট প্রতি‌বেদক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত দ্রুত পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সামরিক আপডেট অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক স্থাপনায় বৃহৎ বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, প্রায় ২০০টির বেশি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে শত শত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত বিমানবাহী রণতরী থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন বা ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স ও সিএনএন।

অন্যদিকে ইরানের বিমানবাহিনী এখনো বড় পরিসরে আকাশযুদ্ধে অংশ নেয়নি বলে সামরিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। পশ্চিমা সূত্রের দাবি, হামলার শুরুতেই ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ও কয়েকটি বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির বিমান সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। তবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে পাল্টা আঘাত অব্যাহত রেখেছে এবং ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা ও বিবিসি নিউজ।

সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর ভাগ্য নিয়ে বিতর্ক। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা তার নিহত হওয়ার দাবি করলেও ইরান সরকার তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ফলে নেতৃত্ব সংকট ও তথ্যযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক দিক থেকে বর্তমানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোট কৌশলগতভাবে এগিয়ে থাকলেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা যুদ্ধকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ দিতে পারে।

বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি যুদ্ধে জড়িত না থাকলেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য হয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে তেল ও তরলীকৃত গ্যাসের দাম বাড়বে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করবে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অর্থনীতি ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশকে নিরপেক্ষ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রেখে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প উৎস অনুসন্ধান, কৌশলগত মজুত বৃদ্ধি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা জোরদার করতে হবে।

পাশাপাশি সম্ভাব্য বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ধাক্কা মোকাবিলায় আমদানি ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ জরুরি হয়ে উঠতে পারে।

সর্বশেষ অবস্থা (১ মার্চ ভোর পর্যন্ত)
আকাশযুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আধিপত্য
ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত
খামেনির অবস্থা নিয়ে বিরোধপূর্ণ দাবি
তেলবাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা বৃদ্ধি

সংবাদসূত্র: রয়টার্স, সিএনএন, বিবিসি নিউজ, আল জাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (লাইভ আপডেট)।