সংলাপের মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত মেটাতে প্রস্তুত আফগানিস্তান

পাকিস্তানের বিমান হামলায় শতাধিক নিহতের পরও আলোচনার আহ্বান কাবুলের; পাল্টা হামলার সতর্কবার্তা তালেবান সরকারের

টুইট ডেস্ক: পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান সংঘাত সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। রাজধানী কাবুলসহ একাধিক শহরে পাকিস্তানের ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ২৭৪ জন নিহত হওয়ার পর শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এ অবস্থান জানায় কাবুল প্রশাসন।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবান সরকারের মুখপাত্র মৌলভী জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, যুদ্ধের সূত্রপাত পাকিস্তানের পক্ষ থেকেই হয়েছে। আফগানিস্তান কেবল আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে নিজের ভূখণ্ড রক্ষা করেছে। তবে পাকিস্তান হামলা অব্যাহত রাখলে আফগানিস্তানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া চালিয়ে যাবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

মুজাহিদ জানান, আফগান বাহিনী পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যা তাদের সক্ষমতার একটি স্পষ্ট বার্তা। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আফগানিস্তান পাকিস্তান ও ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয়।

তিনি আরও বলেন, তালেবান সরকার ক্ষমতায় ফেরার পর পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ইতিবাচক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করছে। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যুকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা উল্লেখ করে মুজাহিদ বলেন, পুরনো অভ্যন্তরীণ সংকট আফগানিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয়।

আফগানিস্তানের সামরিক প্রতিক্রিয়াকে আত্মরক্ষামূলক দাবি করে তিনি পুনরায় সংলাপের আহ্বান জানান এবং বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই উত্তেজনা নিরসন সম্ভব। তবে হামলা অব্যাহত থাকলে প্রতিশোধমূলক অভিযানও চলবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে খাইবার পাখতুনখোয়ায় ডুরান্ড লাইন সীমান্ত এলাকায় আফগান বাহিনীর হামলায় অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয় বলে দাবি করা হয়। আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবেই ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানায় তালেবান সরকার।

পরে পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। রাতভর কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত ২৭৪ জন নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।