পাকিস্তানের অভিযানে ২৯৭ আফগান সেনা নিহতের দাবি

অভিযানে আফগান বাহিনীর ২৯৭ সেনা নিহতের দাবি পাকিস্তানের ।‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ চলমান; তালেবানের পাল্টা অভিযোগ—বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সীমান্ত উত্তেজনা পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, তাদের পরিচালিত ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ অভিযানে আফগান তালেবান বাহিনীর অন্তত ২৯৭ জন সদস্য নিহত এবং ৪৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসলামাবাদ থেকে প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, সীমান্তে ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক হামলার’ জবাবে এই সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে।

পাকিস্তানের সামরিক দাবিসমূহ

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আফগান তালেবান বাহিনীর ২৯৭ জন নিহত, ৪৫০ জনের বেশি আহত, ৮৯টি সীমান্ত সেনা চৌকি ধ্বংস, ১৮টি চৌকি দখল, ১৩৫টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস এবং আফগানিস্তানের ২৯টি স্থানে বিমান ও স্থল হামলা করা হয়।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানটি বিমান বাহিনী ও স্থল বাহিনীর যৌথ অংশগ্রহণে পরিচালিত হচ্ছে এবং লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার

এদিকে পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানিয়েছেন, চলমান সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১২ পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলার সময় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

অপারেশন গাজাব লিল-হক’ কী

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘গাজাব লিল-হক’ শব্দটির অর্থ ন্যায়ের পক্ষে প্রতিশোধমূলক ক্রোধ। ইসলামাবাদের দাবি, আফগান সীমান্ত ঘেঁষা খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলের বিভিন্ন চৌকিতে তালেবান-সমর্থিত হামলার পর পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযানে রাজধানী কাবুল, কান্দাহার, নানগারহার ও পাক্তিয়াসহ একাধিক কৌশলগত এলাকায় হামলার কথা বলা হয়েছে।

তালেবান সরকারের পাল্টা দাবি

আফগান তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, হামলায় মূলত বেসামরিক নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সামরিক ক্ষয়ক্ষতি সীমিত। একই সঙ্গে পাকিস্তানের ভেতরেও পাল্টা আঘাত হানার সতর্কবার্তা দিয়েছে কাবুল প্রশাসন।

স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এখনো দুই পক্ষের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য যাচাই করতে পারেনি।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় দেশকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন, রাশিয়া ও ইরান।

অপরদিকে ভারত ও ইরান পাকিস্তানের হামলার সমালোচনা করেছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি পাকিস্তান–আফগান সম্পর্কের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সরাসরি সামরিক সংঘাত। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা, জঙ্গি আশ্রয় এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের যে সংকট চলছিল, এই অভিযান তা নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় সেনা সমাবেশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।