মনজুরুল হত্যার প্রতিবাদে তারাগঞ্জে সড়ক অবরোধ, ওসি’র অপসারণের দাবি

নিখোঁজের তিন দিন পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, রংপুর–সৈয়দপুর মহাসড়কে মানববন্ধনে তীব্র বিক্ষোভ ও বিচার দাবিতে আন্দোলন।
তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি | আব্দুল্লাহিল শাহীন: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ইলেকট্রিশিয়ান মনজুরুল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে অনন্তপুর এলাকা। হত্যাকাণ্ডের বিচার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) অপসারণের দাবিতে স্থানীয় জনগণ মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা থেকে রংপুর–সৈয়দপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ উপজেলার অনন্তপুর এলাকায় এলাকাবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ শুরু হয়, যা সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকে। এতে অনন্তপুরসহ আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের শত শত মানুষ অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, মনজুরুল নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হলেও পুলিশ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা ও পুলিশের অবহেলার কারণেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা। এ সময় তারাগঞ্জ থানার ওসির অপসারণসহ দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
সড়ক অবরোধের ফলে রংপুর–সৈয়দপুর মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রী ও পরিবহন চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নিখোঁজের তিন দিন পর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের পাশের একটি আলু ক্ষেত থেকে ইলেকট্রিশিয়ান মনজুরুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মনজুরুল ইসলাম (৪৮) অনন্তপুর গ্রামের ফরিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকালে নিজ বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি চললেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।





