ব্যাটম্যানের স্পষ্ট বার্তা

স্ত্রী Amanda Ankaকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর শিরোনামে বিরক্ত হলিউড তারকা

টুইট প্রতিবেদক: ‘সোব্রাইটি নিয়ে ভুয়া নাটক বানানো হচ্ছে, ২৫ বছর আগের বিষয় টেনে আনা অনৈতিক’, বললেন তারকা অভিনেতা। হলিউডে ক্লিকবেইট সংস্কৃতি নিয়ে সরব হলেন জনপ্রিয় অভিনেতা Jason Bateman। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ও তার স্ত্রী Amanda Anka–কে ঘিরে প্রকাশিত কিছু বিভ্রান্তিকর শিরোনাম নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টকশো Jimmy Kimmel Live!-এ উপস্থিত হয়ে ব্যাটম্যান বলেন, বর্তমান মিডিয়া পরিবেশে “ক্লিকবেইট” যেন এক প্রাতিষ্ঠানিক কৌশলে পরিণত হয়েছে, যেখানে পাঠককে আকৃষ্ট করতে বাস্তবতাকে আংশিকভাবে তুলে ধরা হয়।

‘রেয়ার রেড কার্পেট’, কতটা সত্য? শো চলাকালে উপস্থাপক জিমি কিমেল একটি শিরোনামের প্রসঙ্গ তোলেন, যেখানে লেখা হয়েছিল, ব্যাটম্যান নাকি স্ত্রীর সঙ্গে “rare red carpet appearance” দিয়েছেন। জবাবে অভিনেতা স্পষ্ট করেন, গত ২৭ বছরে তিনি কোনো প্রিমিয়ারে স্ত্রীকে ছাড়া যাননি। “আমরা তো সবসময়ই একসঙ্গে যাই। ‘রেয়ার’ শব্দটা কৌতূহল জাগানোর জন্যই ব্যবহার করা হয়েছে,” মন্তব্য করেন তিনি।

সোব্রাইটি ইস্যুতে ‘চেরি-পিক’ সাংবাদিকতা: ব্যাটম্যানের আক্ষেপ আরও গভীর হয় তার ব্যক্তিগত জীবনের এক পুরোনো অধ্যায় নিয়ে। সম্প্রতি একটি ম্যাগাজিন সাক্ষাৎকারে তিনি অকপটে জানান, বিশের কোঠায় পার্টি-কেন্দ্রিক জীবনযাপন করলেও ত্রিশের গোড়াতেই সে অভ্যাস ছেড়ে দেন—যা এখন প্রায় ২৫ বছরেরও বেশি আগের ঘটনা।

কিন্তু কিছু ‘ফ্রিঞ্জ সাইট’ সেই সাক্ষাৎকার থেকে নির্দিষ্ট অংশ তুলে ধরে শিরোনাম করে, “স্ত্রীর সহায়তায় ব্যাটম্যান সোব্রাইটি অর্জন করেছেন।” এ প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, “শিরোনাম দেখে মনে হবে বড় কোনো সংকট ছিল, যা থেকে নাটকীয়ভাবে উদ্ধার পেয়েছি। বাস্তবতা কিন্তু অনেক সরল।”

তার ভাষায়, “ক্লিক করার পর বোঝা যায়, পুরো গল্পটা শিরোনামে যেমন বোঝানো হয়েছে, তেমন নয়। তখন নিজের কাছেই অস্বস্তি লাগে।”

স্ত্রী আমান্ডার ভূমিকা: চাপ নয়, বোঝাপড়া
তবে স্ত্রী Amanda Anka–র ভূমিকা অস্বীকার করেননি ব্যাটম্যান। বরং তিনি জানিয়েছেন, জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার সময় দু’জনের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়েছিল। আমান্ডা নাকি মৃদু রসিকতার সুরে বলেছিলেন, “এই drip, drip, drip আর কতদিন?”

ব্যাটম্যানের ভাষায়, সেটি ছিল কোনো চূড়ান্ত আল্টিমেটাম নয়; বরং পারস্পরিক বোঝাপড়ার ফল। “আমি ভেবেছিলাম ছয় মাস সময় নেব। পরে মনে হলো, এখনই থামাই ভালো,” বলেন তিনি।

ক্লিকবেইট সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বার্তা: ঘটনার মাঝেই কিমেল রসিকতা করে বলেন, “আপনি যদি নিজের খবরেই ক্লিক করা আটকাতে না পারেন, অন্যরা কীভাবে পারবে?” উত্তরে ব্যাটম্যানও হালকা হাস্যরস বজায় রাখেন।

তবে তার বক্তব্যে স্পষ্ট, ডিজিটাল যুগে শিরোনামনির্ভর সাংবাদিকতার প্রবণতা অনেক সময় ব্যক্তিগত ইতিহাসকে বিকৃত করে তুলে ধরে। ব্যাটম্যানের মতে, পাঠককে আকৃষ্ট করার প্রয়াসে বাস্তবতার অতিরঞ্জন দীর্ঘমেয়াদে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

হলিউডের এই অভিজ্ঞ অভিনেতার মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, সংবাদ কি তথ্যের জন্য, নাকি কৌতূহল জাগানোর জন্য? আর সেই সীমারেখা অতিক্রম হলেই কি জন্ম নেয় বিভ্রান্তি?

এখন দেখার বিষয়, ক্লিকবেইট সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তার এই খোলামেলা অবস্থান অন্য তারকাদেরও মুখ খুলতে উদ্বুদ্ধ করে কি না।