ছেলে পলাতক, আদালতের নির্দেশে বাবা-মা জেলে

ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মিললেও শুনানিতে হাজির হয়নি অভিযুক্ত!
মুরাদুল ইসলাম সনেট: বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহীতে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বাবা-মায়ের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদিয়া সুলতানা সকালে এ আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন চারঘাট উপজেলার অনুপমপুর গ্রামের মইদুল ইসলাম (৫৫) ও তার স্ত্রী অজিফা বেগম (৫০)। তাদের ছেলে মোবারক হোসেন ওরফে লালচাঁন (২১) মামলার প্রধান আসামি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট লালচাঁনের বিরুদ্ধে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়ে এবং পরে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। ডিএনএ পরীক্ষায় নবজাতক শিশুটি ধর্ষণের ফল বলে নিশ্চিত হয় তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনা জানানো হলেও আসামির বাবা-মা ছেলের পক্ষ নেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১২ জুন কিশোরীর বাবা আদালতে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি লালচাঁন জামিনে মুক্তি পান।
বৃহস্পতিবার মামলার ধার্য তারিখে লালচাঁন আদালতে হাজির না হলেও অন্য আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। এ অবস্থায় আদালত তার বাবা-মায়ের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং পরবর্তী শুনানিতে প্রধান আসামিকে হাজির করার নির্দেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সবুর জানান, প্রধান আসামির অনুপস্থিতির কারণেই আদালত জামিন বাতিলের আদেশ দিয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া গুরুতর মামলায় প্রধান আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকলে জামিনদার বা সহ-আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেন, যাতে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়।
মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে এবং প্রধান আসামি অনুপস্থিত থাকায় পরবর্তী শুনানিকে কেন্দ্র করে নতুন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।






