দু’বার জোরপূর্বক আটক: বাংলাদেশি আলিয়ার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড়

ছবি” সংগৃহিত

দু’বার জোরপূর্বক আটক, সোশ্যাল মিডিয়ায় #JusticeForAliya ট্রেন্ডিং, ইলহান ওমার ফেডারেল তদন্ত দাবি

টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশি–আমেরিকান নাগরিক আলিয়া রহমান (৪৩) দু’বার জোরপূর্বক আটকের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিতর্ক ও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। প্রথমবার জানুয়ারি ১৩ তারিখে মিনিয়াপোলিসে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাচ্ছিলেন আলিয়া।

‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ নামে আইসিই-ডিএইচএসের অভিবাসন অভিযানের সময় তাকে ট্রাফিক জ্যামে আটকে এজেন্টরা গাড়ির জানালা ভেঙে, সিটবেল্ট কেটে জোর করে টেনে বের করেন। অটিস্টিক ও ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরির শিকার আলিয়া বারবার নিজের অক্ষমতা জানানোর চেষ্টা করলেও উপেক্ষা করা হয়। তাকে Whipple Federal Building-এ নেওয়া হয় এবং পরে Hennepin County Medical Center-এ ভর্তি করা হয়।

দ্বিতীয়বারের গ্রেপ্তার ঘটেছে ২৪ ফেব্রুয়ারি, যখন আলিয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে বিশেষ অতিথি ছিলেন। কংগ্রেসে নীরবে প্রতিবাদ করার কারণে ক্যাপিটল পুলিশ তাকে “Unlawful Conduct” অভিযোগে গ্রেপ্তার করে টেনে বের করে নেয়, যার ফলে তার পুরোনো কাঁধের আঘাত আরও গুরুতর হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

গ্রেপ্তারের পর আলিয়া বলেন, “Every time you try to break my body, you fuel my spirit.” তিনি আরও জানান, এই ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অমানবিকতার প্রতিফলন।

আইনি লড়াই ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। MacArthur Justice Center আলিয়ার পক্ষে আইসিই-এর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন এবং অক্ষম ব্যক্তির প্রতি অবহেলা। কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমার ফেডারেল তদন্ত দাবি করেছেন এবং বলেছেন, “এটি গণতন্ত্রের জন্য চিন্তার বিষয়।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল দুটি ভিডিও—জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার—মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি, LGBTQ+ ও রেসিয়াল জাস্টিস সমর্থকসহ লাখ লাখ মানুষ এই ঘটনার প্রতিবাদ করছেন। #JusticeForAliya, #AbolishICE এবং #CivilRights হ্যাশট্যাগগুলো ট্রেন্ডিং হয়েছে।

এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন অভিযান, নাগরিক অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিয়ে জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আলিয়া বর্তমানে বাড়িতে সুস্থতার পথে রয়েছেন, তবে তার শারীরিক ও মানসিক আঘাত কাটাতে সময় লাগবে বলে পরিবার জানিয়েছে।

সূত্র: The Guardian, The New York Times, Democracy Now, ইলহান ওমারের অফিসিয়াল বিবৃতি