রাজশাহীতে ‘অদম্য নারী সম্মাননা’ পেলেন ৪০ জন

ছবি: সংগৃহিত

প্রতিকূলতা জয় করে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন, বিভাগীয় পর্যায়ে পাঁচ নারী সেরা ঘোষণা; প্রশাসনের পক্ষ থেকে নারীর শিক্ষা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা জোরদারের অঙ্গীকার!

মুরাদুল ইসলাম সনেট: নারীর অদম্য সাহস, সংগ্রাম ও সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে রাজশাহীতে ৪০ জন নারীকে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ‘অদম্য নারী সম্মাননা’ প্রদান করা হয়েছে। নানা প্রতিকূলতা, বৈষম্য ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে নিজ নিজ ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ৪০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্য থেকে ১০ জনকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁদের মধ্য থেকে পাঁচজনকে বিভাগীয় সেরা ‘অদম্য নারী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বিভাগীয় সেরা হিসেবে নির্বাচিতরা হলেন, শিক্ষা ও চাকরিতে সফল ক্যাটাগরিতে শেরপুর উপজেলার রিজু তামান্না; সমাজ উন্নয়নে অবদান ক্যাটাগরিতে শিবগঞ্জ উপজেলার সুমাইয়া ইসলাম; অর্থনৈতিকভাবে সফল ক্যাটাগরিতে পাবনা সদর উপজেলার লতা খাতুন; সফল জননী ক্যাটাগরিতে মোহনপুর উপজেলার রাশেদা বেগম এবং নির্যাতনের বিভীষিকা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা ক্যাটাগরিতে চারঘাট উপজেলার রাজিয়া খাতুন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী। তিনি বলেন, “নারীরা আজ শুধু পরিবার নয়, রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রতিকূলতা পেরিয়ে যারা এগিয়ে চলেছেন, তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া মানে পুরো সমাজকে এগিয়ে নেওয়া। অদম্য নারীদের এই সম্মাননা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, নারীর শিক্ষা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) হাবিবুর রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মনির হোসেন, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ-এর উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার এবং উপ-পুলিশ কমিশনার রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের স্বীকৃতি সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়। অদম্য নারীদের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী হতে উদ্বুদ্ধ করবে।