রংপুর জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে হুইলচেয়ার ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ

তারাগঞ্জে জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন ও মানবিক সহায়তা। উপজেলা দপ্তর পরিদর্শন শেষে যে বার্তা দিলেন জেলা প্রশাসক।
আব্দুল্লাহিল শাহীন: রংপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এনামুল আহসান মঙ্গলবার বিকেলে তারাগঞ্জ উপজেলার সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সকল দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
সভার সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বার হোসেন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর আওতায় ডেইরি প্রডিউসার গ্রুপের খামারিদের মাঝে উন্নতমানের দুটি মিল্কিং মেশিন বিতরণ করেন। সয়ার ইউনিয়নের ফরিদাবাদ ডেইরি পিজির ৪০ জন খামারির প্রতিনিধি হিসেবে মোছা লাবনী আক্তার এবং আলমপুর ইউনিয়নের মধুরামপুর ডেইরি পিজির ৪০ জন খামারির প্রতিনিধি হিসেবে মো. মাসুদ রানা এই মেশিন দুটি গ্রহণ করেন। জেলা প্রশাসক বলেন, “এ ধরনের যান্ত্রিক সহায়তা খামারিদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং ডেইরি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম, পল্লী মাতৃকেন্দ্র, এসিডদগ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় ৪০ জন উপকারভোগীর মাঝে মোট ২১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ সহায়তা প্রদান করা হয়।
এছাড়া তিনজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়, যা তাদের দৈনন্দিন চলাফেরায় স্বনির্ভরতা বাড়াতে সহায়ক হবে। জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে বলেন, “প্রতিবন্ধী ও অসহায় ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক কর্তব্য।”
অপরদিকে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি পরিবার এবং হতদরিদ্র ৪টি পরিবারসহ মোট ১০টি পরিবারের মাঝে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক পরিবার পেয়েছে দুই বান্ডিল টিন, ৬,০০০ টাকার চেক এবং ১০ প্যাকেট শুকনো খাবার। জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, “দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রাথমিক চাহিদা পূরণ আমাদের অগ্রাধিকার। সরকারের সহায়তা যেন প্রত্যেক উপকারভোগীর হাতে পৌঁছায়, তাতে কোনো ত্রুটি থাকবে না।”
পরিদর্শন ও সহায়তা বিতরণের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসন মানবিক উদ্যোগ এবং সেবামূলক কার্যক্রমের জোরালো বার্তা দিয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণ এই উদ্যোগকে প্রশংসনীয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। জেলা প্রশাসক এসময় আরও বলেন, “এ ধরনের কার্যক্রম শুধু সামাজিক কল্যাণ নয়, এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
উপজেলার খামারিরা ও উপকারভোগীরা জেলা প্রশাসকের সহায়তা প্রদানের উদ্যোগকে মানবিক ও কার্যকর বলে অভিহিত করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা চালু থাকবে এবং স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণ কার্যক্রমকে শক্তিশালী করবে।







