কেবিন থেকে কফিন: মেক্সিকোতে ‘এল মেনচো’র গ্রেপ্তার-মৃত্যুর পেছনে প্রেমিকার ট্র্যাকিং

এল মেনচো’র মৃত্যুর পর আগুনে মেক্সিকো। অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ
টুইট প্রতিবেদক: মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক চক্র CJNG–এর প্রধান নেমেসিও ওসেগুয়েরা সারভান্তেস ওরফে ‘এল মেনচো’কে ধরার অভিযানে তার এক ঘনিষ্ঠ রোমান্টিক সঙ্গীর গতিবিধি ট্র্যাক করা হয়েছিল। এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের তাপালপা এলাকায় একটি নির্জন কেবিনে বিশেষ বাহিনীর অভিযানে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে মারা যান।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল রিকার্ডো ট্রেভিলা ট্রেজো ২৩ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে এল মেনচোর এক ঘনিষ্ঠ নারীসঙ্গীর সহযোগীকে নজরদারিতে রাখে। ২০ ফেব্রুয়ারি ওই সহযোগী নারীকে তাপালপার একটি গোপন আস্তানায় নিয়ে গেলে সেখানে এল মেনচো উপস্থিত হন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোয়েন্দা সহায়তায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রোববার ভোরে অভিযান চালানো হয়। গোলাগুলিতে এল মেনচো ও তার দেহরক্ষীরা আহত হন; পরে হেলিকপ্টারে রাজধানীতে স্থানান্তরের সময় তার মৃত্যু হয়।
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে সহিংসতা শুরু হয়। CJNG-এর প্রতিশোধমূলক হামলায় জালিস্কোসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ২৫ জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। পুয়ের্তো ভ্যালার্তা ও গুয়াদালাহারা বিমানবন্দরে একাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, হাজারো পর্যটক আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ২ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে; বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ নিরাপত্তা সদস্য মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম দাবি করেছেন, সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এল মেনচোর মৃত্যুর ফলে CJNG-তে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তীব্র হতে পারে, যা সাময়িকভাবে সহিংসতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের জালিস্কো ভেন্যু ঘিরেও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে ‘প্রেমিকার সূত্রে পতন’ বলছেন, কেউ আবার বলছেন, এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি গোয়েন্দা তৎপরতার কৌশলগত সাফল্য।
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অভিমত, একটি শীর্ষ নেতার পতন মাদক চক্র ভেঙে দেয় না; বরং নতুন নেতৃত্বের উত্থান ও রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের ঝুঁকি তৈরি করে।






