রাজশাহীর দুর্গাপুরে রাতের আঁধারে দুই পানের বরজে আগুন

পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, দোষীদের শনাক্তে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের দাবি
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় গভীর রাতে দুটি পানের বরজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই চাষীর প্রায় দুই বিঘা জমির পানের বরজ পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এতে তাদের প্রায় ৭ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এটি দুর্ঘটনা নয়; পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের পারিলা গ্রামের বাগমারা বিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই সময় এলাকায় এশা ও তারাবির নামাজ শেষ পর্যায়ে ছিল। হঠাৎ ‘আগুন-আগুন’ চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে দেখতে পান পানের বরজে আগুন জ্বলছে।
তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করেন। খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসে। তবে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুনে উপজেলার রসুলপুর এলাকার নজরুল ইসলামের এক বিঘা এবং পারিলা গ্রামের গোলাম নবীর ১৮ কাঠা জমির পানের বরজ পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত দুই চাষী জানান, সামনে ঈদ উপলক্ষে এবং চৈত্র মাসে পানের ভালো দাম পাওয়ার আশায় তারা বরজের পান সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, পুকুর খননের জন্য জমি না দেওয়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর ফায়ার সার্ভিসের ডিউটিরত ফায়ারকর্মী মোহাম্মদ আলী বলেন, “আগুন নিভে যাওয়ার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে থেকেই ফিরে আসি।”
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাষীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কৃষকের ঘামে ফলানো ফসল পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।






