ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারের বার্তা

নতুন সরকারের সঙ্গে ফ্রান্স ও ইইউ’র কৌশলগত সম্পৃক্ততা জোরদার; বিনিয়োগ, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল ও গণতান্ত্রিক সহযোগিতায় নতুন দিগন্তের বার্তা!
টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশে নিযুক্ত Jean-Marc Séré-Charlet আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কূটনৈতিক মিশনের প্রধানদের সঙ্গে নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান-এর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
নতুন সরকার গঠনের পর এই সাক্ষাৎকে কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ধারাবাহিক সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, যিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, সাধারণ নির্বাচনের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। বৈঠকে ফরাসি রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ-ফ্রান্স দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত সেরে-শার্লে বলেন, ফরাসি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী। এজন্য একটি স্থিতিশীল ও ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলসহ বিভিন্ন খাতে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইইউকে সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে European Union Election Observation Mission-এর মাধ্যমে সহায়তা প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আরও বিস্তৃত হবে। নতুন সরকার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সব ক্ষেত্রে ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
উল্লেখ্য, ফরাসি রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরব, চীন, ভারত, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে নতুন সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ও সহযোগিতার আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক এসব সৌজন্য সাক্ষাৎ নতুন সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি সক্রিয় ও ইতিবাচক অধ্যায়ের সূচনার ইঙ্গিত বহন করছে।






