মন্ত্রী হয়েও রিকশাতেই চলাফেরা করছেন মিনু

সরকারি গাড়ি ও প্রটোকল এড়িয়ে রাজশাহীতে রিকশায় চলাফেরা; সাধারণ মানুষের সঙ্গে আগের মতোই মিশছেন ভূমিমন্ত্রী মিনু।
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী শহরে মিজানুর রহমান মিনুকে গাড়িতে চড়তে খুব একটা দেখা যায় না। শনিবার সকালে তিনি রিকশায় চড়ে সবজির বাজারে যান, আবার রিকশাতেই ফেরেন। দলীয় কর্মসূচিতেও অংশ নেন একইভাবে। সম্প্রতি তিনি ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে রাজশাহীতে তাঁকে এখনো দেখা যাচ্ছে সেই চিরচেনা রূপে- রিকশায় চলাফেরা করতে।
মিজানুর রহমান মিনুর দীর্ঘদিনের সঙ্গী রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি মিনুকে নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে যান। শনিবার সকালেও নগরের ভদ্রা এলাকার বাসা থেকে কুদ্দুসের রিকশায় চড়ে বের হন মন্ত্রী। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি যান সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে। সেখানে প্রাতর্ভ্রমণে বের হওয়া বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে কিছু সময় আড্ডা দেন।
পরে সাহেববাজারের একটি কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুপুরে ফেরার পথে দড়িখড়বোনা এলাকার একটি সেলুনে যান। প্রায় ৪০ বছর ধরে এই সাধারণ সেলুনেই চুল কাটান তিনি। সেখান থেকে বের হয়ে আবার রিকশায় চড়ে বাসায় ফেরেন।
রিকশায় যাতায়াতের সময় হাসিমুখে পথচারীদের সালাম দিতে দেখা যায় তাঁকে। সাধারণ মানুষও আন্তরিকভাবে সালাম জানান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রব পান্না।
মিজানুর রহমান মিনু ৩২ বছর বয়সে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। টানা ১৭ বছর তিনি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। মেয়র থাকাকালে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর আসন থেকে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা।
মেয়র হওয়ার আগ থেকেই মিজানুর রহমান মিনু রিকশায় চলাফেরা করতেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গণসংযোগ করেছেন রিকশায় চড়ে। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন রিকশায় চড়ে।
শনিবার দুপুরে রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “আমার রিকশাতেই মিনু ভাই পুরো শহর ঘোরেন। আজও তিনি সরকারি গাড়ি নেননি। একজন মন্ত্রী হয়েও রিকশায় চলাফেরা করছেন- এটা আমার খুব ভালো লাগে।”
ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রব পান্না জানান, তিনি ১১ বছর ধরে মিনুর সঙ্গে আছেন। তাঁর ভাষ্য, “আজ সকালে প্রটোকলের জন্য পুলিশের গাড়ি এসেছিল, সরকারি গাড়িও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু তিনি কোনো প্রটোকল নেননি। আগের মতোই রিকশায় বের হয়েছেন। তিনি সব সময় মানুষের কাছাকাছি থাকতে চান।







