মুই দুই দিন না খেয়া ঘরের বাইরোত পরি আছনু: ইউএনও’র হস্তক্ষেপে মুক্তি

ইউএনও’র হস্তক্ষেপে তারাগঞ্জের ঘরে লাগানো তালা খুলে দেওয়া হলো, দুই দিন বাইরে রাত যাপন থেকে সামিরা পেলেন স্বস্তি।

আব্দুল্লাহিল শাহীন, তারাগঞ্জ (রংপুর): রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় স্বামী পরিত্যক্তা সামিরা বেগমের ঘরে লাগানো সুদ কারবারির তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেনের হস্তক্ষেপে খুলে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইউএনও’র নির্দেশে হাঁড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম পদ্মপুকুর উজিয়াল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওই বাড়িতে গিয়ে তালা খুলে দেন।

জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে সামিরার মেয়ে জান্নাতুল স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ী আলমিনা বেগমের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা সুদে নেন। পরে চাকরির সন্ধানে ঢাকায় গিয়ে মেয়েটি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। সুদের টাকা না পেয়ে আলমিনা বেগম সামিরার থাকার ঘরে তালা লাগিয়ে দেন। ফলে দুই দিন ঘরের বাইরে রাত কাটাতে হয় সামিরাকে।
বিষয়টি এলাকায় আলোচনায় উঠলে ইউএনও’র নজরে আসে। এরপরই তাঁর নির্দেশে তালা খুলে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সামিরা বেগম বলেন, “মুই দুই দিন না খেয়া ঘরের বাইরোত পরি আছনু। রোজা মাস শুরু হইছে। রাইতোত যখন ঘরের বাইরোত সুতি আছনু তখন মোর ভয়েতে ঘুমে আইসেনা বাবা। মোক ওই সুদারু যে কষ্ট দিছে আল্লাহর গজব পরবে অর উপর। ইউএনও মোর ঘরের তালা খুলি দেছে ওমার ভালো করবে আল্লাহ্।”

ইউএনও মোনাব্বর হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমি জানার পর পরেই মহিলাটির ঘরে লাগানো তালা খুলে দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেই।”