মোনাজাতে শহীদ জিয়ার নাম না নেওয়ায় ছাত্রদলের প্রতিবাদ-হট্টগোল

টুইট ডেস্ক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন পর্ব শেষে শহীদদের আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনায় করা দোয়া ও মোনাজাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম না নেওয়ায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আবার দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করানো হয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা আশরাফ উদ্দিন খান আজহারী।
এদিন একুশের প্রথম প্রহরে শহীদবেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক। একে একে সবার শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন ও বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে ভাষা শহীদ, একাত্তরের শহীদ, চব্বিশের শহীদসহ অনেকের জন্য দোয়া করা হলেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
পরবর্তী সময়ে মোনাজাত শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শহীদবেদির নিচ থেকে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহীদ জিয়ার নাম উল্লেখ করে দোয়া না করায় প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতিই নন, তিনি একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক এবং এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে দাঁড়িয়ে তার নামে দোয়া না করায় ক্ষিপ্ত হয়েছেন তারা। এ সময় উপস্থিত প্রশাসনের নেতাদের কাছে এ ভুলের ব্যাখ্যা চাইতে থাকেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমামকে দিয়ে আবার মোনাজাত পরিচালনা করানো হয়। এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তাদের প্রয়াত সন্তান আরাফাত রহমান কোকো, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
তবে মোনাজাতে শহীদ জিয়ার নাম না নেওয়ার ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে দেখছে শাখা ছাত্রদল। মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটির দিকে অভিযোগের তির ছুড়ে শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘ইমাম সাহেব অত্যন্ত ভালো মানুষ, আজ পর্যন্ত কোনোদিন তার মোনাজাত থেকে শহীদ জিয়ার নামে দোয়া করতে তিনি ভুল করেননি। আয়োজক কমিটি বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে তার নামটি বাদ দিয়ে দিয়েছে বলে আমরা মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফ্যাসিবাদ কায়েম করছে, কয়েকজন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে জিম্মি করে তাদের স্বার্থ হাসিল করছে।’
এদিকে ছাত্রদলের প্রতিবাদে দুবার মোনাজাত করানোর পরপরই প্রশাসনের নেতাদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। ইমামের অনিচ্ছাকৃত ভুলকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক এস এম সুইটেরটের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসির বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপাচার্যের নিকট এই ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সুইট বলেন, ‘ভিসি একা তো প্রশাসন না, প্রো ভিসি ট্রেজারার ফুল বডি মিলেই প্রশাসন।
এ সময় প্রো ভিসি ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, ‘মোনাজাত শুরুর আগে তিনি ইমামকে ডেকে কানে কানে জিয়া পরিবারের সবার জন্য দোয়া করার কথা বলে দিয়েছিলেন। তবুও ইমাম তাদের জন্য দোয়া না করার দায়ভার প্রো ভিসির ওপর বর্তায় না।’
এর পরপরইই মূলত দুপক্ষের মধ্যে হট্টগোলের শুরু হয়। এ সময় উপাচার্য ড. নকীব নসরুল্লাহ, ট্রেজারার ড. জাহাঙ্গীর আলম ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা প্রো ভিসিকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। প্রো ভিসি উপস্থিত ছাত্রদের বিষয়টি জানাবেন বলে উল্লেখ করলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সুইট প্রো ভিসিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি বলেন স্যার, আমিও আমার পয়েন্টে কথা বলব।’ এ সময় বৈষম্যবিরোধী এই নেতা সব সময়ই বেয়াদবি করেন বলে অভিযোগ করেন প্রো ভিসি এম এয়াকুব আলী। পরবর্তী সময়ে তারা সবাই ডায়না চত্বরের কাছাকাছি পৌঁছালে উপস্থিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আরেক দফা হট্টগোল হয়।
জানতে চাইলে ইবি প্রো ভিসি ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, ‘সুইট এখানের সমন্বয়ক ছিল, সে আমার খুবই স্নেহের। আমি নিজেও একজন জুলাই যোদ্ধা। সে হয়তো মনে করেছে যে এই আয়োজক কমিটিতে প্রো ভিসি রয়েছে বিধায় ইমাম সাহেব ভুলটা করেছেন। আবার সে এটাও জানতো না যে আমি আগেই ইমাম সাহেবকে কানে কানে বলে দিয়েছি। সুইট ছোট মানুষ, তার বয়স কম; এখানে তেমন কোনো উচ্চবাচ্য হয়নি। সে আমার নাম নিয়েছে হয়তো। এটা সে নিতেই পারে, এটা আমাকে তেমন কষ্ট দেয়নি।






