ইউরোপ ঘাঁটিতে ট্যাঙ্কার বহর, ইরান ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

আটলান্টিকে মার্কিন এয়ার ব্রিজ, যুদ্ধপ্রস্তুতির ইঙ্গিত। মধ্যপ্রাচ্য অভিমুখে ফাইটার ও ট্যাঙ্কার ঢল। লাজেসে ১৫ KC-46 মোতায়েন।

বিশেষ প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী (USAF) পর্তুগালের আজোরেস দ্বীপপুঞ্জের কৌশলগত বিমানঘাঁটি Lajes Field–এ অন্তত ১৫টি KC-46A পেগাসাস এয়ারিয়াল রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার মোতায়েন করেছে।

স্থানীয় এভিয়েশন স্পটার কার্ট মেন্ডোনকার তোলা সাম্প্রতিক ছবিতে বিমানঘাঁটির র‍্যাম্পে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ট্যাঙ্কারগুলোর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স (OSINT) মহলে এটিকে “massive deployment” হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

এই মোতায়েনকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর সামরিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ইউরোপ হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানশক্তি স্থানান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত ৭২ ঘণ্টায় ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্য রুটে মার্কিন সামরিক বিমানের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মোতায়েনের কাঠামো ও সামরিক চিত্র

উপস্থিত ট্যাঙ্কারগুলো হলো KC-46 Pegasus—যা দীর্ঘপাল্লার ফাইটার ও বোমারু বিমানের জন্য আকাশে জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত হয়। কিছু সূত্রে ১১–১২টি নিশ্চিত হলেও সর্বশেষ ছবিতে ১৫টি দৃশ্যমান।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ক্যারোলাইনা এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের ১২টি F-16C Fighting Falcon (TABOR ফ্লাইট) লাজেসে অবতরণ করে। এছাড়া ইউরোপীয় আকাশপথ ব্যবহার করে F-35A Lightning II, F-22 Raptor এবং F-15E Strike Eagle–এর বড় বহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা।

সহায়ক সম্পদের মধ্যে রয়েছে E-3G Sentry (AWACS), E-11A BACN এবং ভারী পরিবহন বিমান C-17 Globemaster III ও C-5M Super Galaxy।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৪০০ মার্কিন সেনা সদস্য লাজেসে অবস্থান করছেন, যাদের একটি অংশ স্থানীয় হোটেলে অস্থায়ীভাবে অবস্থান নিয়েছেন।

আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত লাজেস ঘাঁটি ট্রান্সআটলান্টিক সামরিক ফ্লাইটের ঐতিহ্যবাহী স্টপওভার। ইউরোপ হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘপাল্লার ফাইটার মোতায়েনের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রশাসন একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখলেও, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক বিকল্প প্রস্তুত রাখছে।

২০২৫ সালের জুনে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার সময় ৩০টিরও বেশি ট্যাঙ্কার ইউরোপে পাঠানো হয়েছিল। এবারের “sustained air bridge” ইঙ্গিত দিচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি বা পর্যায়ক্রমিক মোতায়েনের দিকে। গত ৪৮ ঘণ্টায় ইউরোপে পৌঁছানো ট্যাঙ্কারের সংখ্যা ৪০–৪৬টির মধ্যে হতে পারে বলে OSINT সূত্রের দাবি।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

United States European Command (EUCOM) এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। পেন্টাগন সূত্র এই ধরনের স্থানান্তরকে “রুটিন রোটেশনাল ডিপ্লয়মেন্ট” হিসেবে বর্ণনা করছে।

তবে ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি সতর্ক নজরে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশে জ্বালানি সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানো মানে দ্রুত আক্রমণাত্মক বা প্রতিরক্ষামূলক বিমান অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি।

সামগ্রিক মূল্যায়ন

লাজেসে KC-46 মোতায়েন কেবল একটি লজিস্টিক পদক্ষেপ নয়; এটি সম্ভাব্য বৃহত্তর আঞ্চলিক সামরিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে স্টেলথ ফাইটার বহরের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের ওপর।

পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। আগামী কয়েক দিনে আরও বিমান আগমন বা নতুন কূটনৈতিক বার্তার মাধ্যমে এই মোতায়েনের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হতে পারে।

সূত্র: ওপেন-সোর্স তথ্য ও প্রতিরক্ষা সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত।