মধ্যপ্রাচ্যে টানটান অবস্থা, ৫০ যুদ্ধবিমান পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা চরমে: যুদ্ধবিমান মোতায়েন, যৌথ নৌ মহড়া ও রকেট উৎক্ষেপণ সতর্কতা।
বিশ্ব ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে চাপ বাড়াতে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ৫০টির বেশি উন্নত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে F-22 Raptor, F-35 Lightning II এবং F-16 Fighting Falcon। পাশাপাশি দুটি বিমানবাহী রণতরী—USS Abraham Lincoln ও USS Gerald R. Ford—গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এটি প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতি; তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি পরমাণু আলোচনায় কৌশলগত চাপ সৃষ্টি।
অন্যদিকে ইরান রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে “মেরিটাইম সিকিউরিটি বেল্ট ২০২৬” শীর্ষক যৌথ নৌ মহড়া শুরু করেছে। মহড়াটি ওমান উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং উত্তর ভারত মহাসাগরে পরিচালিত হচ্ছে। রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ ইরানের বান্দর আব্বাস বন্দরে পৌঁছেছে এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) হরমুজ প্রণালীতে সক্রিয় মহড়া চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০-৩০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়—ফলে এখানে উত্তেজনা বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, ইরান দক্ষিণাঞ্চলে রকেট উৎক্ষেপণের জন্য একটি NOTAM (Notice to Airmen) জারি করেছে, যাতে নির্দিষ্ট আকাশসীমা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি চলমান মহড়ার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এটিকে শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন।
কূটনৈতিক পর্যায়ে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’—ইরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ—নিয়ে অচলাবস্থা রয়ে গেছে। সামরিক কর্মকর্তারা প্রস্তুতির কথা জানালেও এখনো সরাসরি হামলার বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষ সরাসরি যুদ্ধ এড়াতে চাইলেও সামরিক শক্তি প্রদর্শন পরিস্থিতিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর করে তুলেছে। কূটনৈতিক অগ্রগতি না হলে মধ্যপ্রাচ্য নতুন সংঘাতের দিকে এগোতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল—আন্তর্জাতিক মহল শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।






