অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার এলএএইচ ও সুরিয়ন কিনতে আগ্রহী বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সম্ভাব্য নতুন সংযোজন: দক্ষিণ কোরিয়ার LAH ও Surion
টুইট প্রতিবেদক: প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ার Korea Aerospace Industries (KAI) নির্মিত দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার—LAH-1 (Mirion) ও KUH-1 Surion—অধিগ্রহণে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি মডেল থেকে ৬টি করে মোট ১২টি হেলিকপ্টার কেনা হতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে LAH প্রোগ্রামের প্রথম বড় রপ্তানি সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রতিরক্ষা সূত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ইতোমধ্যে KAI-এর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও সম্প্রতি তুরস্কের T129 ATAK অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনা নিশ্চিত হয়েছে, তবুও রোটারি-উইং সক্ষমতা বহুমুখী ও আধুনিক করতে নতুন প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে।
KAI LAH-1 (Mirion): হালকা আক্রমণ সক্ষমতা
LAH-1 (Mirion) মূলত Airbus Helicopters–এর H155 প্ল্যাটফর্মের ভিত্তিতে তৈরি একটি লাইট আর্মড হেলিকপ্টার। এটি সশস্ত্র রিকনেসান্স, ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট (CAS) এবং অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিশনে কার্যকর। অস্ত্রসজ্জায় রয়েছে এয়ার-টু-গ্রাউন্ড মিসাইল, রকেট পড এবং ২০ মিমি কামান। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীতে এটি পুরনো AH-1 Cobra প্রতিস্থাপনের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, LAH যুক্ত হলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ট্যাকটিক্যাল সাপোর্ট ও সীমিত আক্রমণ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
KUH-1 Surion: বহুমুখী ইউটিলিটি প্ল্যাটফর্ম
KUH-1 Surion একটি মাল্টি-রোল ইউটিলিটি হেলিকপ্টার, যা ট্রুপ ট্রান্সপোর্ট, মেডিকেল ইভাকুয়েশন (MEDEVAC), সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (SAR) এবং লজিস্টিক সাপোর্টে ব্যবহৃত হয়। এর মেরিন ভার্সন ‘Marineon’ সমুদ্রিক অপারেশনের জন্য উপযোগী। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী ও মেরিন কর্পসে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে Surion যুক্ত হলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শান্তিরক্ষা মিশন এবং উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আধুনিকীকরণ পরিকল্পনা ও কৌশলগত প্রেক্ষাপট
এই সম্ভাব্য অধিগ্রহণ ‘Forces Goal 2030’ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার লক্ষ্য সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি। বর্তমানে বিমানবাহিনীর বহরে রয়েছে Mi-171Sh, AW139 এবং AW109 হেলিকপ্টার। সম্প্রতি ৬টি তুর্কি T129 ATAK অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনা হয়েছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে সরবরাহ পাওয়ার কথা।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন নয়। এর আগে KAI-এর FA-50 লাইট ফাইটার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য এই হেলিকপ্টার চুক্তি হলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বৈচিত্র্যকরণ নীতিও জোরদার হবে।
এখনও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ঘোষণা হয়নি। আলোচনা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অধিগ্রহণ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট, আক্রমণ সক্ষমতা ও ইউটিলিটি অপারেশন উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হবে।








