‘আমার পরিবার কাঁদছে’—অশ্রুভেজা কণ্ঠে ডিসিকে অভিশাপ

ভোট ছিনতাইয়ের অভিযোগে ডিসিকে অভিশাপ, পূর্ণগণনার দাবিতে উত্তাল রংপুর।
রংপুর থেকে আব্দুল্লাহিল শাহীন: রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে রোববার দুপুরে দেখা গেল এক আবেগঘন ও উত্তপ্ত দৃশ্য। অভিযোগ—ভোট ছিনতাই। দাবি—পূর্ণগণনা।
আর সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণেই জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে অভিশাপ দিলেন রংপুর-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা।
দুপুর দুইটার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভে কাঁপা কণ্ঠে তিনি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান-কে উদ্দেশ করে বলেন,
“আপনার ওপর আমার অভিশাপ লাগবে। বউ-বাচ্চাকে আপনি কান্না করাচ্ছেন। আপনার বউ বাচ্চা রাস্তায় কান্না করবে ভাই, এটা আমার অভিশাপ।” তার বক্তব্যে ছিল হতাশা, ক্ষোভ আর পরাজয়ের তীব্র বেদনা।
ফলাফল ‘ছিনতাই’ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আপনি ফলাফল ছিনতাই করেছেন। এর জবাব আল্লাহর তরফ থেকে পাবেন। আমার পরিবার কান্না করছে। আল্লাহর তরফ থেকে আপনার বিচার হবে।”
এ সময় জেলা প্রশাসক নীরব ছিলেন। পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরাই ভরসাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
এর আগে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপির মনোনীত তিন প্রার্থী—রংপুর-৩ আসনের সামসুজ্জামান সামু, রংপুর-৪ আসনের এমদাদুল হক ভরসা এবং রংপুর-৬ আসনের সাইফুল ইসলাম—দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে তারা পূর্ণ ভোট পুনর্গণনার দাবিতে স্লোগান দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে অবস্থান কর্মসূচি। পরে তারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
তিন প্রার্থীর অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হলেও তারা ‘কারচুপি’ ও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর শিকার হয়েছেন। তাদের দাবি—জনগণের রায়ের সঙ্গে মিল রেখে সবার সামনে ভোটের প্রকৃত ফলাফল ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে টানা আন্দোলনে নামারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। তার দাবি, নির্বাচনী কার্যক্রম শতভাগ সফল ও সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তিন প্রার্থীর লিখিত আবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাকে ঘিরে এখন আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। পরাজয়ের ক্ষোভ, নাকি সত্যিই কারচুপির অভিযোগ—তার জবাব মিলবে হয়তো তদন্ত ও কমিশনের সিদ্ধান্তে।
তবে এদিনের সেই আবেগঘন মুহূর্ত রংপুরের নির্বাচনী ইতিহাসে এক আলোচিত অধ্যায় হয়েই রইল।






