সেনাবাহিনী নির্বাচনের মাঠে নজিরবিহীন পেশাদারিত্বে প্রশংসিত

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী প্রমাণ করেছে পেশাদারিত্ব ও কৌশলগত দক্ষতা।
টুইট প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের পরিবেশ নিরাপদ ও সুষ্ঠু রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মাঠপর্যায়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও পেশাদারিত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে। ভোটকেন্দ্র দখলরোধ, ব্যালট ছিনতাই প্রতিরোধ, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সেনাবাহিনী একেবারেই কোনো ছাড় দেননি।
নির্বাচনের পর দ্রুতই ব্যারাকে ফিরে যাবে সেনাবাহিনী, জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর থেকে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় দেড় বছর ধরে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করে আসছে সেনাবাহিনী। এ সময়ে তারা ১০,১৫২টি অবৈধ অস্ত্র, ২,৯১,০০০ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে এবং ২২,২৮২ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে আটক করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে। নির্বাচনের আগে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনসহ একাধিক অপরাধী গ্রেপ্তার, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ ও বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সেনাসদস্যরা।
নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ সেনাবাহিনী, ৫ হাজার নৌবাহিনী ও ৩,৭৩০ বিমানবাহিনী সদস্য দায়িত্বে মোতায়েন ছিলেন। দেশের ৬২ জেলা, ৪১১ উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে তারা টহল, যৌথ অভিযান ও নজরদারি চালিয়েছে। দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নির্বাচনী সরঞ্জাম পরিবহনেও সহায়তা করেছে সেনাবাহিনী।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের নির্দেশনা দিয়েছেন। আইএসপিআর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী বলেন, “সরকার যখন চাইবে, তখনই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে।”
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, বিগত সরকারের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের বিপরীতে এবার জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছে—যার মূল কারণ সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিকভাবে পেশাদারিত্বপূর্ণ ভূমিকা। সাধারণ ভোটার থেকে রাজনৈতিক নেতারা পর্যন্ত সারাদেশে তাদের নিয়ন্ত্রিত, শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করছেন।






