শপথ ঘিরে টানটান উত্তেজনা, নতুন সরকার গঠনের ক্ষণগণনা

শপথ ঘিরে সাংবিধানিক টানাপোড়েন, দ্রুত সরকার গঠনের প্রস্তুতি।
বদিউল আলম লিংকন: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনা তীব্র হয়েছে। এই শপথ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর মাধ্যমেই নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ উন্মুক্ত হয়।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পূর্ববর্তী সংসদ বিলুপ্ত হয় এবং সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। ডেপুটি স্পিকারও কার্যত দায়িত্বে নেই। ফলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারের মাধ্যমে শপথ গ্রহণের পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮ অনুযায়ী, নির্বাচিত সদস্যদের গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। সাধারণত স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পাঠ করান। তারা অনুপস্থিত বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন; নির্ধারিত সময়ে তাও সম্ভব না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারেন।
নির্বাচন কমিশন ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ২৯৭ আসনের গেজেট প্রকাশ করেছে বলে সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে। সে হিসাবে ১৫ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শপথ সম্পন্ন হওয়ার সাংবিধানিক সময়সীমা রয়েছে, এবং ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথাও জানা গেছে।
শপথ কে পড়াবেন—এ প্রশ্নে কয়েকটি নাম আলোচনায় আসে। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ-কে রাষ্ট্রপতির মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে আনার প্রস্তাব ছিল। পরবর্তীতে বর্তমান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী-র নামও আলোচিত হয়। তবে সর্বশেষ প্রশাসনিক আলোচনায় নিরপেক্ষতা ও দ্রুততার স্বার্থে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ গ্রহণের পক্ষে মত জোরালো হয়েছে। সংসদ সচিবালয় এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে; দলটি একাই ২০৯ আসন পেয়েছে বলে গেজেট সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৭ থেকে ৭৭ আসনে জয়ী হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য মিলেছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি ছয়টি আসন পেয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ধরা হচ্ছে।
শপথ সম্পন্ন হলে প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচন হবে, এরপর রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। মন্ত্রিসভার শপথ রাষ্ট্রপতির কাছে অনুষ্ঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে এটি বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। তাই শপথ প্রক্রিয়াটি যেন নিরপেক্ষ, সাংবিধানিক এবং সময়ানুবর্তী হয়, এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজ সমানভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।





