এনসিপির ৬ নেতার জয়, তরুণ রাজনীতির নতুন অধ্যায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: এনসিপির ৬ নেতার জয়, রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ!

টুইট ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে নবগঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি আসনে বিজয়ী হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা থেকে উদ্ভূত দলটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের অংশ হিসেবে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং ছয়টি আসনে জয় পেয়ে তাদের রাজনৈতিক উত্থানের স্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছে।

বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি ও তার মিত্ররা ২১৩টি আসনে জয়ী হয়েছে, আর জামায়াত ও তার মিত্ররা (যার মধ্যে এনসিপি অন্তর্ভুক্ত) ৭৩টি আসনে সাফল্য পেয়েছে। এনসিপির এই ফলাফল তরুণ নেতৃত্বের উত্থান এবং গণঅভ্যুত্থানের প্রভাবকে সামনে এনেছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত একটি তরুণ-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিরাই দলটির মূল স্তম্ভ। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটে যোগ দেয়। দলটির লক্ষ্য সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা। নির্বাচনে তারা ‘শাপলা কলি’ প্রতীক ব্যবহার করে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসেনানী হিসেবে পরিচিত। যদিও ছয়জন শীর্ষ নেতা বিজয়ী হয়েছেন, তবে সারজিস আলম (পঞ্চগড়-১) এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (ঢাকা-৮) নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।

ঢাকা-১১ আসনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শাপলা কলি প্রতীকে ৯৩,৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম এ কাইয়ুম ধানের শীষ প্রতীকে ৯১,৮৩৩ ভোট পেয়েছেন। জয়ের ব্যবধান ২,০৩৯ ভোট। এই আসনটি রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত এবং নাহিদ ইসলাম গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত।

রংপুর-৪ আসনে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন ১,৪৭,৯৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১,৩৮,৯৪৪ ভোট। ব্যবধান ৯,০০৩ ভোট। এই আসনটি পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এবং আখতার হোসেনও গণঅভ্যুত্থানের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিলেন।

কুমিল্লা-৪ আসনে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ১,৬০,০৮১ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের জসীম উদ্দিন ট্রাক প্রতীকে ৪৯,৮৪৫ ভোট পেয়েছেন। ব্যবধান প্রায় ১,১০,২৩৬ ভোট।

নোয়াখালী-৬ আসনে যুগ্ম সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ জয়ী হয়েছেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহবুবের রহমান শামীমের তুলনায় ২৬,৭৪৬ ভোট বেশি পেয়েছেন।

কুড়িগ্রাম-২ আসনে যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ ১,৫৬,৫০৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১০,৮০০ ভোট বেশি পেয়ে বিজয় নিশ্চিত করেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন ১,০৬,১৭১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মনির হোসেন কাসেমী পেয়েছেন ৮০,৬১৯ ভোট। জয়ের ব্যবধান ২৫,৫৫২ ভোট।

এনসিপির এই জয় সংসদে তরুণ ও গণঅভ্যুত্থান-কেন্দ্রিক নেতৃত্বের প্রবেশ নিশ্চিত করেছে। জোটের অংশ হিসেবে তারা বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে কাজ করবে, যেখানে বিএনপি ২১৩টি আসন (বিদ্রোহীসহ) নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে।

তবে জামায়াত-এনসিপি জোটে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে, যা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আলোচিত হচ্ছে। এনসিপির সাফল্য তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে, তবে দলের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ এবং জোটগত রাজনৈতিক সমীকরণ ভবিষ্যতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

এই প্রতিবেদন নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ঘোষণার পর তথ্য হালনাগাদ হতে পারে।