৭৪ লাখ টাকাসহ আটক, রাতেই মুক্ত বেলাল

টাকা ফেরতসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর।
টুইট প্রতিবেদক: নির্বাচনের ঠিক আগের দিন (বুধবার) ১১ ফেব্রুয়ারি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ আটক হওয়া ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা বেলাল উদ্দিন প্রধানকে রাতে টাকা ফেরত দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে ভোটের প্রেক্ষাপটে।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ/আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি ঢাকা থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (সকাল ১০:৫৫-এ ল্যান্ড) এসেছিলেন। তার সঙ্গে ২টি ব্যাগে নগদ টাকা ছিল।
প্রাথমিকভাবে তিনি নিজে প্রায় ৬০ লাখ টাকার মত বলে জানান। পরে পুলিশের গণনায় (মেশিনের মাধ্যমে) মোট ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্র (সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিমসহ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থ বোধ করেন। প্রথমে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা করে ইসিজিতে সমস্যা দেখান।
রাতে (বুধবার রাত ১০-১১টার দিকে) কোনো আইনি অভিযোগ না থাকায় (বা প্রমাণ না পাওয়ায়) টাকাসহ তাকে পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে নগদ টাকা বহনে কোনো সীমা নেই (শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুসারে), এবং ঢাকা বিমানবন্দরে কাস্টমস/সিকিউরিটি থেকে অনাপত্তি নিয়ে তিনি উড়োজাহাজে উঠেছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর দাবি
দলটি এ ঘটনাকে “সাজানো নাটক” ও “পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র” বলে অভিহিত করেছে। জামায়াতের সহকারী মহাসচিব আহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বেলাল উদ্দিন ব্যবসায়িক কারণে ঢাকায় গিয়েছিলেন এবং ব্যাংক বন্ধ থাকায় নগদ টাকা বহন করতে বাধ্য হয়েছেন। এটি ভোট বা অবৈধ কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। দলের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনও সংবাদ সম্মেলনে একই দাবি করেন।
বিএনপির অভিযোগ
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, এটি “একক ঘটনা নয়”। জামায়াত নেতারা ভোট কেনার জন্য টাকা বিতরণের পরিকল্পনা করছিল। অন্যান্য এলাকায়ও (যেমন ঢাকা-১৫ আসন) একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।
কিছু নাগরিক ও রাজনৈতিক মহল (যেমন এনসিপি) টাকা উদ্ধারের নামে ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে।
এ ঘটনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (১২ ফেব্রুয়ারি) ঠিক আগের দিন ঘটেছে, যখন ব্যাংক-আর্থিক লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে অবৈধ অর্থ প্রবাহ রোধে। অনুরূপ কয়েকটি ঘটনা (যেমন কুমিল্লায় জামায়াত নেতা ২ লাখ টাকাসহ আটক) সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
পুলিশ/প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরে বিস্তারিত প্রেস ব্রিফিংয়ের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু টাকা ফেরত দেওয়ায় কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে।
এ ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।






