প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে শীর্ষে তারেক রহমান: রয়টার্স-আল জাজিরা

১৩তম সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তারেক রহমানের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন, প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে শীর্ষে বিএনপি।

টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশের আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন দেশীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও আলোচনার কেন্দ্রে।

দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে স্ব-নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তার দেশে প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। তার এই ফেরা ঘটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কয়েকদিন আগে, যা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগ ও রাজনৈতিক উদ্দীপনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণের পর বিএনপি আবারও দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দলটির নেতৃত্ব সংকট দূর করে এবং নির্বাচনী লড়াইকে নতুন গতি দেয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তারেক রহমানকে আসন্ন নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অন্যতম শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করেছে।

রয়টার্স-এর এর প্রতি‌বেদ‌নে বলা হয়, ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র, এবারের নির্বাচনী প্রচারে তুলনামূলকভাবে নরম, সংযত ও পুনর্মিলনমূলক ভঙ্গিতে হাজির হয়েছেন। তিনি বারবার রাজনৈতিক প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে সরে এসে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কথা বলছেন।

একাধিক জনসভা ও সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি রাজনৈতিক প্রতিশোধ চাই না, আমি একটি ভাঙা রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করতে চাই।”

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে। দলের নির্বাচনী ইশতেহারে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, গার্মেন্টস খাতের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে খেলনা, চামড়াজাত পণ্য ও হালকা প্রকৌশল শিল্পের বিকাশ, প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে স্বৈরাচার প্রতিরোধ, বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করে একক শক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ।

রয়টার্স, আল জাজিরা, টাইম ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক জনমত জরিপে বিএনপি-জোটকে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

কিছু জরিপে দলটির প্রতি সমর্থন ৭০ শতাংশ পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। এসব জরিপ অনুযায়ী, তারেক রহমানই বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী পদের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

তবে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মোড় এনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নেমেছে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ৫৪০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকের উপস্থিতিতে বাড়ছে স্বচ্ছতার প্রত্যাশা