ভোটের আমেজে ঘরমুখো পোশাককর্মীরা

চার দিনের ছুটি পেয়ে ঘরমুখো শ্রমিকদের ভোটের উৎসব।
টুইট প্রতিবেদক: ভোট দিতে চার দিনের ছুটি পেয়ে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে নিজ নিজ বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন হাজারো পোশাককর্মী। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ মহাসড়কে নামায় গাজীপুরে ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে।
এতে ভোটকে ঘিরে পোশাকশিল্প এলাকায় আলাদা এক ধরনের উৎসব ও ব্যস্ততার আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাত থেকে চন্দ্রা–সফিপুর ও বাড়ইপাড়া এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকায় দুর্ভোগে পড়েন ঘরমুখো শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখনো মহাসড়কে মানুষের চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পোশাককর্মীরা জানান, অধিকাংশ কারখানায় একযোগে ছুটি দেওয়ায় সবাই একসঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে বের হয়েছেন। অনেকেই বলেন, রাতভর অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত বাস ও যানবাহন পাননি। সকালে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সুযোগ বুঝে কিছু পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন, যা শ্রমিকদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ঘরমুখো শ্রমিকদের বেশির ভাগই জানিয়েছেন, তারা নিজ নিজ এলাকায় নিবন্ধিত ভোটার। ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে দীর্ঘদিন পর পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দও তাদের মধ্যে কাজ করছে। অনেক শ্রমিকের ভাষ্য, কষ্ট হলেও ভোট দিতে পারাটাই তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে মহাসড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকা দিয়ে উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহমুখী পোশাকশ্রমিকদের যাতায়াত বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং শ্রমিকদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পোশাককর্মীদের ঘরে ফেরা আর ভোটকে ঘিরে গাজীপুর ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে এখন স্পষ্টভাবে ভোটের আমেজ। শ্রমিকদের এই যাত্রা একদিকে যেমন মহাসড়কে চাপ তৈরি করেছে, অন্যদিকে তেমনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আগ্রহের ছবিও তুলে ধরছে।






