স্টেট বিল্ডিংয়ে সবার অংশগ্রহণ সম্ভব: জাইমা রহমান

সুযোগ পেলে সবাই দেশ গঠনে যুক্ত হতে পারে!

টুইট ডেস্ক: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তরুণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে তাদের দেশ গড়ার ভাবনা ও পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

ঢাকার মহাখালীর ডিওএইচএস খেলার মাঠে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ ‘চায়ের আড্ডা’ অনুষ্ঠানেকলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণদের কাছ থেকে দেশ নিয়ে তাদের ভাবনার কথা শোনেন জাইমা রহমান।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কন্টেন্ট জেনারেশন টিমের এ আড্ডায় জাইমা রহমান তার স্বপ্নের কথা বলেন। তরুণদের জানান, বাংলাদেশকে যেরকম দেখতে চান।

এসময় অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়তে সবার অংশগ্রহণ, জুলাই যোদ্ধা, শিক্ষার্থীদের জন্য পার্টটাইম কাজের সুযোগ, যানজট, সাইবার বুলিং, গ্যাস ও পানি সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

এদিন জাইমা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘যদি সুযোগ তৈরি করা যায়, আমাদের যেটা মনে হয় সব ধরনের মানুষই স্টেট বিল্ডিংয়ে অংশগ্রহণ করতে পারে।

আমাদের উদ্দেশ্যটা হচ্ছে, যেমনটি আমরা যে বললাম “ডাইভার্স” বাংলাদেশ, “ফ্রিডম অব স্পিচ”, সবার জন্য খাদ্য, ‘ইনক্লুসিভ’ বাংলাদেশ। এখন যদি উদ্দেশ্য এক হয়, বিভিন্ন জায়গা থেকে যদি মানুষ কাজ করতে চায়, নিশ্চয়ই আমরা তাদের সুযোগ দেব।’

‘আপনার তো কাজ করার সুযোগ আছে’- এক শিক্ষার্থীর এ কথায় জাইমা রহমান বলেন, ‘দেখি, ইনশাল্লাহ। সকলে মিলে কাজ করতে পারব, একা তো কাজ করা সম্ভব নয়। ইনশাল্লাহ।’

জুলাই আন্দোলনে বড় একটা অংশ আহত হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে, চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের বয়সটা কম; তাদের নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?

এ প্রশ্নের জবাবে জাইমা বলেন, ‘অবশ্যই কনসার্ন আছে। আব্বা আর আমি, আম্মা, আমরা সবাই এই বিষয়টার ব্যাপারে আলোচনা করি। উত্তর লম্বা হয়ে যাবে। সময় এখন খুব কম, আমাকে আরেকটা টেবিলে যেতে হবে। দুঃখিত, এটা নিয়ে আরও কথা পরে বলব।

এরপরে জাইমা রহমান আরেক টেবিলে যান, পরিচিত হন এবং কথা বলেন অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে।

জাইমা বলেন, ‘কষ্ট করে আপনারা এসেছেন, ধন্যবাদ। আপনাদের আজকে আনা হয়েছে আপনারা কেমন ঢাকা দেখতে চান, আপনাদের কী পরিকল্পনা, এটা জানতে চাচ্ছি আমরা।’

এরপর শিক্ষা ব্যবস্থা ও সাইবার বুলিং নিয়ে কথা বলেন শিক্ষার্থীরা।

জাইমা বলেন, ‘বুলিংয়ের মাধ্যমে নারীদের পাবলিক লাইফ থেকে সরানো হচ্ছে। মানসিকতা পাল্টানো খুব কঠিন। আপনারা অন্তর্ভুক্তিমূলক ঢাকা দেখতে চাচ্ছেন, যেখানে বিভিন্ন ধরনের মানুষ থাকতে হবে।’

কর্মসংস্থান ও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি চাকরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে ‘চায়ের আড্ডায়’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার কলেজের সঙ্গে অন্যান্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাপের কথা তুলে ধরে তা কমাতে হবে বলে মন্তব্য করে তিনি।

ঢাকার যানজট কমানোর উপায় খুঁজতে শিক্ষার্থীদের মতামত নেন জাইমা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, অফিস ও স্কুল-কলেজের সময় একইসঙ্গে হওয়ায় যানজট প্রকট আকার ধারণ করে। একটা অবশ্যই সমাধান করা জরুরি। স্কুল ও অফিস সময় একসঙ্গে রাখা যাবে না। স্কুল একটু দেরিতে শুরু করা যেতে পারে।

জবাবে জাইমা বলেন, ‘ছুটি হলেও আমার মা সকাল ৭টার সময় উঠার তাড়া দিতেন। দেখুন, মানুষেরা সবসময় গাড়িতে চড়ছে, বাসে চড়ছে। যদি ১০/১২ মিনিট হেঁটেও যেতে পারে, ওটাতেই তো ভালো।

আমার কাছে আজব লাগছে যে, আমার অনেক আত্মীয়স্বজন ঢাকায়, তার বাসায় আমি ১০/১৫ মিনিট হেঁটে যাব, ওটাতে মানুষ ঘাবড়িয়ে যাচ্ছে। যদি রাস্তা-ঘাট, স্ট্রিট লাইটিং ঠিক করা হয় সেফটির দিক থেকে, তাহলে তো আপনি যেকোনো জায়গায় হেঁটে যেতে পারেন।’

আলোচনার একপর্যায়ে রাজধানীতে গ্যাস ও পানির সমস্যা নিয়ে কথা বলেন শিক্ষার্থীরা।

জাইমা রহমান একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ঢাকা শহর সম্পর্কে জানতে চান। তখন একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের ভেতর যানবাহন সব সুন্দরভাবে চলে। কিন্তু বাইরে বের হওয়ার পর সব এলোমেলো হয়ে যায়। তো ট্রাফিক ব্যবস্থা যখন ভালো হবে, রাস্তায় শৃঙ্খলা আসবে, তখন মনে হবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এটা আমাদের চাওয়া।’

জাইমা বলেন, ‘সড়ক ব্যবস্থাপনায় এটা (বিশৃঙ্খলা) দীর্ঘ সময় ধরে চলে এসেছে।’

আরেক শিক্ষার্থী তার প্রত্যাশা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা একটু নির্মল ঢাকা দেখতে চাই। যানজট মুক্ত ঢাকা দেখতে চাই। যেখানে প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারব।’

জাইমা রহমানের তখন বলেন, ‘এখন শীতের সময়। এসি কম চলছে। কিন্তু গরমের সময় সবগুলো এসি যখন চলবে, তখন বাতাসের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যাবে। গাছপালা অনেক কমে গেছে। খালগুলোও খনন করা হয়নি।

খাল-বিলগুলো মেরামত করা, পার্কগুলো সংস্কারের পাশাপাশি শহর পরিষ্কার রাখতে হবে সবার জন্য। একইসঙ্গে দূষণ রোধ করার জন্যও। শহরে ফ্লাইওভার করা হয়েছে, কিন্তু নিচ দিয়ে যে মানুষ পার হবে ও রকম ব্যবস্থা করা নাই। রাত হলে মনে হয় অনেক ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা হয়ে ওঠে।’

বেসরকারি ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ‘কোলাবরেশন’ হয় কিনা, প্রশ্ন করেন জাইমা।

জবাবে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এটা তো হয়ই না। বরং অনেক দূরত্ব রয়েছে। এখনো পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে দুটি আলাদা দুনিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়।’

জাইমা বলেন, ‘এটা হয়ত নতুন প্রজন্মকে দিয়েই পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। আমরা সবাইকেই সমান ভাবি।’

চায়ের আড্ডা অনুষ্ঠানের আয়োজকরা বলেন, এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ছয়টি টেবিলে বসেন শিক্ষার্থীরা। আড্ডা চলে প্রায় দুই ঘণ্টা।