আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন বার্তা: বাংলাদেশকে বেছে নিল যুক্তরাষ্ট্র!

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ
টুইট প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (Agreement on Reciprocal Trade) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে এই চুক্তিতে সই করেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাম্বাসেডর গ্রিয়ার এবং বাংলাদেশের সরকারের উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। দক্ষিণ এশিয়ায় এ ধরনের প্রথম চুক্তি হিসেবে এটিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ছবি: এক্স
প্রায় নয় মাসের দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক সমঝোতার পর চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ছাড় সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তির বিনিময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্যের জন্য প্রেফারেনশিয়াল মার্কেট অ্যাক্সেস প্রদান করতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আমদানি লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হবে না বলেও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে, যা মার্কিন রপ্তানিকারকদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস (USTR) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকারকদের জন্য বাংলাদেশের বাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক উপস্থিতি জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তি দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে, যা দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ায় এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও এল সালভাদরের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি সম্পাদন করলেও বাংলাদেশকে এই অঞ্চলে প্রথম অংশীদার হিসেবে বেছে নেওয়ায় চুক্তিটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগের পথ সুগম করবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় করবে।
এই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন দিগন্তে প্রসারিত হলো।






