রংপুর-২ আসনে নির্বাচন প্রস্তুতি: ১৫ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা

নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সতর্কতা, বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন।

আব্দুল্লাহিল শাহীন, তারাগঞ্জ (রংপুর): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ (বদরগঞ্জ–তারাগঞ্জ) আসনে ভোটগ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে মোট ১৩৭টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

এর মধ্যে বদরগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও তারাগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে এসব কেন্দ্র অবস্থিত।

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৫৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৫ জন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি ভবনে স্থাপন করা হয়েছে।

রংপুর জেলা প্রশাসনের তথ্যে জানা গেছে, জেলায় মোট ৮৭৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১৯টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২১টি এবং জেলার আটটি উপজেলায় ৯৮টি কেন্দ্র রয়েছে। রংপুর-২ আসনে মোট ১৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত—এর মধ্যে বদরগঞ্জে ৮টি এবং তারাগঞ্জে ৭টি। পূর্ববর্তী নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও স্থানীয় সংঘর্ষের আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে এসব কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে।

নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা পুলিশ সুপার ও রিটার্নিং অফিসারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় দ্বিগুণ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এছাড়া নির্বাচনকালীন সময়ে সারাদেশে এক লাখের বেশি সেনা সদস্য, ৩৭ হাজার বিজিবি, ৯ হাজার র‍্যাব, দেড় লাখ পুলিশ ও পাঁচ লাখ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে প্রচারণাও জমে উঠেছে। বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। শেষ মুহূর্তে প্রার্থীরা ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত রংপুর-২ আসনে বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা না ঘটলেও প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলে এই আসনে ভোটার উপস্থিতি ৭০ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন