জামায়াতের নির্বাচনী দাবি ও রয়টার্স: সত্য-মিথ্যা

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: জামায়াতের ‘ইতিহাসের সেরা ফল’ দাবির ফ্যাক্ট-চেক ও বিশ্লেষণ।
টুইট প্রতিবেদক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে “আমার দেশ অনলাইন” একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে জামায়াতে ইসলামী এই নির্বাচনে ‘ইতিহাসের সেরা ফল’ করতে যাচ্ছে এবং রয়টার্স এই খবর নিশ্চিত করেছে। তবে ফ্যাক্ট-চেক ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ দেখায়, এই দাবিটি অতিরঞ্জিত এবং বিভ্রান্তিকর।
রয়টার্স, বিবিসি, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, The Business Standard (TBS) ও আল জাজিরা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রয়টার্সের কোনো সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জামায়াতকে ইতিহাসের সেরা ফলের পথে বলা হয়েছে বলে দেখা যায়নি। এছাড়া তারেক রহমানের এমন কোনো সাক্ষাৎকারও রয়টার্সে পাওয়া যায়নি। এই ধরণের তথ্য সম্ভবত স্থানীয় অনলাইন সংবাদে অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের মূল দাবির ফ্যাক্ট-চেক
জামায়াতের নির্বাচনী ফলাফল: নির্ভরযোগ্য জরিপ ও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জামায়াত ২৯০-এর বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। কিছু আসনে শক্তিশালী অবস্থান থাকলেও বিএনপির তুলনায় পিছিয়ে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, বিএনপি ১৫০–২০০ আসন পেতে পারে, জামায়াতের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ২০–৫০। সুতরাং ‘ইতিহাসের সেরা ফল’ দাবিটি সঠিক নয়।
জেন-জি দল ও জোট: নতুন দলসমূহ (যেমন এনসিপি বা অন্যান্য) নির্বাচনী জোটে অংশগ্রহণ করতে পারে, তবে জামায়াতের সঙ্গে সরাসরি বড় জোট গঠনের খবর নিশ্চিত নয়। জেন-জি ভোটাররা প্রায় ২৫% অংশগ্রহণ করতে পারে, কিন্তু তাদের ভোট মূলত দুর্নীতি-বিরোধী ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে কেন্দ্রিত।
ভারত-চীন প্রভাব: রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ফলাফলের ওপর আন্তর্জাতিক প্রভাব থাকতে পারে। তবে এটি রাজনৈতিক জল্পনা এবং ফলাফল নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব পরিমাপ করা সম্ভব নয়।
জামায়াতের ভাবমূর্তি: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতের ভালো ফল ‘পরিষ্কার ভাবমূর্তি’-এর কারণে। তবে দলটির ১৯৭১-এর ভূমিকা এখনও অনেক ভোটারের কাছে নেতিবাচক, তাই এই যুক্তি প্রায়ই বিতর্কিত।
নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ
বর্তমানে বিএনপি নির্বাচন সমর্থনে এগিয়ে রয়েছে। ভোটারদের প্রধান চাহিদা দুর্নীতি প্রতিরোধ, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও স্থিতিশীলতা। জামায়াতের শক্তি দ্বিতীয় সারির, এবং বিএনপির প্রভাবশালী অবস্থান ভোটে স্পষ্ট। নির্বাচনের দিন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া চালানোর জন্য সকল পক্ষের সহযোগিতা অপরিহার্য।
“আমার দেশ অনলাইন”-এর প্রতিবেদনে জামায়াতকে ‘ইতিহাসের সেরা ফল’কারী হিসেবে দেখানো ও রয়টার্সের নাম ব্যবহার করা ভুল তথ্য বা অতিরঞ্জিত দাবি। নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের জন্য রয়টার্স, বিবিসি, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার বা TBS-এর মতো আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বিশ্বাসযোগ্য উৎস হিসেবে গণ্য করা উচিত।
ভোটের দিন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।






