থাইল্যান্ডে আনুতিনের বড় জয়, সরকার গঠনের পথে ভুমজাইথাই

ছবি: রয়টার্স

সীমান্ত উত্তেজনা ও জাতীয়তাবাদী আবেগে বদলে গেল থাইল্যান্ডের ভোটের চিত্র।

টুইট প্রতিবেদক: থাইল্যান্ডে ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত স্ন্যাপ সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চারনাভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন ভুমজাইথাই পার্টি স্পষ্ট বিজয় অর্জন করেছে। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ৫০০ আসনের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে দলটি ১৯২ থেকে ১৯৪টি আসন পেয়েছে, যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি।

ভোট গণনার প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর এই ফল প্রকাশিত হয়। যদিও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৫১ আসন ভুমজাইথাই পায়নি, তবুও শক্ত অবস্থানে থেকে কোয়ালিশন সরকার গঠনের পথ তাদের জন্য সহজ হয়ে গেছে।

নির্বাচনের পর আনুতিন চারনাভিরাকুল জয় দাবি করে বলেন, এই বিজয় কেবল তাঁর দলের নয়, বরং সব থাই নাগরিকের, যারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি ও রয়টার্স জানায়, নির্বাচনের ফলাফল আনুতিনের ক্ষমতায় টিকে থাকার সম্ভাবনাকে প্রায় নিশ্চিত করে তুলেছে। নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয় পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার পর ঘোষিত স্ন্যাপ ইলেকশনের মাধ্যমে।

প্রাথমিক ফলাফলে ভুমজাইথাই পার্টির পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পিপলস পার্টি, যারা প্রায় ১১৬টি আসন পেয়েছে। দলটির নেতা নাথাফং রুয়েংপানিয়াউত পরাজয় স্বীকার করে জানান, ভুমজাইথাই সরকার গঠন করলে তাঁর দল গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রার দল ফেউ থাই পার্টি তৃতীয় অবস্থানে থেকে আনুমানিক ৭৪ থেকে ৭৮টি আসন পেয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফলাফল অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। কারণ নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে প্রগতিশীল পিপলস পার্টি এগিয়ে ছিল। তবে ডিসেম্বর ২০২৫ সালে জোট সরকার ভেঙে যাওয়ার পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সীমান্ত উত্তেজনা এবং জাতীয়তাবাদী আবেগ ভুমজাইথাই পার্টির পক্ষে কাজ করেছে। বিশেষ করে কম্বোডিয়া সীমান্ত সংক্রান্ত উত্তেজনার পর জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বার্তা ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, একই দিনে থাইল্যান্ডে নতুন সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি রেফারেন্ডামও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জনগণের কাছে ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক কাঠামোর বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, থাইল্যান্ডের এই নির্বাচন দেশটির রাজনীতিতে কনজারভেটিভ ও স্থিতিশীলতা-ভিত্তিক রাজনীতির শক্ত অবস্থানকে আবারও সামনে এনেছে। শক্তিশালী প্রথম দল হিসেবে ভুমজাইথাই পার্টি এখন কোয়ালিশন আলোচনায় এগোচ্ছে, আর আনুতিন চারনাভিরাকুলের নেতৃত্বে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠনের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।