নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে জি টু জি চুক্তি

ছবি: এক্স

যুক্তরাজ্য থেকে হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে জাহাজ ক্রয়: বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন মাইলফলক।

টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সামুদ্রিক জরিপ, নেভিগেশন সহায়তা এবং ব্লু ইকোনমি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে সরকার-থেকে-সরকার (G2G) চুক্তির আওতায় একটি আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিকে নৌবাহিনীর আধুনিকায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ছবি: এক্স

আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ নৌ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন রয়্যাল নেভি জাহাজ HMS Enterprise (Echo-class hydrographic and oceanographic survey vessel) ক্রয় করা হচ্ছে। এটি একটি ‘অফ-দ্য-শেলফ’ জাহাজ—অর্থাৎ ব্যবহৃত হলেও আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এবং পূর্ণ সক্ষমতাসম্পন্ন একটি সার্ভে ভেসেল।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও রয়্যাল নেভির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা।

হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপে ব্যবহৃত এই জাহাজটি সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়, ওশানোগ্রাফিক ডেটা সংগ্রহ, নৌ-নেভিগেশন সহায়তা, সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং ব্লু ইকোনমি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে মৎস্যসম্পদ, খনিজ ও জ্বালানি অনুসন্ধানে এই জাহাজের ব্যবহার বাংলাদেশকে আরও সক্ষম করে তুলবে।

নৌবাহিনী সূত্র জানায়, এই জাহাজটি বর্তমানে ব্যবহৃত পুরোনো Roebuck-class জাহাজ বানৌজা অনুসন্ধান (BNS Anushandhan)-এর স্থলাভিষিক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন জাহাজ সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২০০ নটিক্যাল মাইল বিস্তৃত এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ) এবং বঙ্গোপসাগরের জরিপ কার্যক্রম আরও নির্ভুল, দ্রুত ও কার্যকর হবে।

এই চুক্তির আলোচনা শুরু হয় ২০২৫ সালের জুন মাসে। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস-এর যুক্তরাজ্য সফরকালে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (FCDO) এবং রয়্যাল নেভির সঙ্গে দীর্ঘ প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত আলোচনার পর চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়।

উল্লেখ্য, HMS Enterprise জাহাজটি ২০২৩ সালে রয়্যাল নেভি থেকে ডিকমিশন করা হয় এবং যুক্তরাজ্যের Portsmouth বন্দরে লেয়ার-আপ অবস্থায় ছিল। প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন ও লাইফ এক্সটেনশন কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে এটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, এই জাহাজ সংযোজন বাংলাদেশের সামুদ্রিক সীমানা জরিপ, সমুদ্রসম্পদ অনুসন্ধান এবং ব্লু ইকোনমি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

বাংলাদেশের প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত সামুদ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চল কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য উন্নত জরিপ সক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: বাংলাদেশ নৌবাহিনী সদর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি, UK Government official release, BDMilitary.com, TBS News, The Daily Star, Dhaka Tribune, UK GOV.