উদ্ধার হওয়া ৭৫টি হারানো মোবাইল মালিকদের ফেরত দিল আরএমপি

সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রযুক্তিগত সহায়তায় উদ্ধার, মালিকদের হাতে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর!
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রযুক্তিগত সহায়তায় উদ্ধার হওয়া ৭৫টি হারানো মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় আরএমপি সদর দপ্তরের সভাকক্ষে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মোবাইল ফোন হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরএমপির পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান।
আরএমপি সূত্র জানায়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাজশাহী মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হারিয়ে যাওয়া মোট ৭৫টি মোবাইল ফোন শনাক্ত ও উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়ে ফোনগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে পুলিশ কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেন এবং মাদকসহ যেকোনো অপরাধ দমনে নাগরিকদের তথ্য সহায়তা কামনা করেন। তিনি বলেন, সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে পুলিশ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। এ জন্য আরএমপির ফেসবুক পেজ, হটলাইন নম্বর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগাযোগ নম্বর চালু রয়েছে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মেলামেশা করছে এবং নিয়মিত লেখাপড়া করছে কি না—এসব বিষয়ে নজরদারি রাখা জরুরি, যাতে তারা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে। একই সঙ্গে যেসব অভিভাবক মাদকাসক্ত, তাদের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে মালিকরা আরএমপির এ উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এ জনবান্ধব কার্যক্রমে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) (চলতি দায়িত্বে) মো. ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, পিপিএমসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া শুধু একটি সেবা নয়, এটি পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করে।
অপরাধ দমনের পাশাপাশি নাগরিক স্বার্থে এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ড আধুনিক পুলিশিংয়ের আদর্শ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।






