৪০ হাজার ক্যামেরার টেন্ডার ঘিরে উত্তেজনা: বডি ক্যামেরা বিতর্ক

নির্বাচন-নিরাপত্তার জন্য ক্যামেরা কেনার প্রকিউরমেন্টে পলাতক সাবেক আইজিপি বেনাজির ও নাফিসা কামালের লিঙ্ক নিয়ে অভিযোগ
টুইট প্রতিবেদক: Defence Research Forum DRF (@Defres360)-এর একটি সাম্প্রতিক পোস্টে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)-এর নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশের জন্য বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা কেনার কাজে Smart Technologies কোম্পানিকে আবার জড়ানো হয়েছে।
এই কোম্পানির সঙ্গে পলাতক সাবেক আইজিপি বেনাজির আহমেদ এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এইচ এম মুস্তফা কামালের মেয়ে নাফিসা কামাল-এর যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পোস্টে আরও বলা হয়েছে যে, স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ক্যামেরা স্মার্ট টেকনোলজিস থেকে কেনা হয়েছে। এছাড়া দাম, সোর্সিং এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এতে দুর্নীতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে এবং নির্বাচনী নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রকিউরমেন্টের বিবরণ
২০২৫ সালের ৯ আগস্ট একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় (চেয়ারম্যান: প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে নির্বাচনী নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশের জন্য ৪০,০০০ বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা কেনা হবে। অনুমানিত খরচ ছিল প্রায় ২৬৯ কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে জার্মানি, চীন ও থাইল্যান্ডের কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। পরে সংখ্যা সামান্য কমানো হয়েছে।
Smart Technologies-এর অভিযোগ হিসেবে বলা হচ্ছে, কোম্পানিটি আওয়ামী লীগ আমলে পুলিশের অনেক টেন্ডার পেয়েছিল। বেনাজির আহমেদের সঙ্গে যোগসূত্র এবং নাফিসা কামালের লিঙ্কের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক তদন্তে (Daily Sun, ৬-৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দাবি করা হয়েছে যে, স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এই কোম্পানি আবার কেনার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে। এছাড়া Huawei-এর সঙ্গে পার্টনারশিপে টেন্ডারে অংশ নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।
দুর্নীতির ঝুঁকি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
দাম ও সোর্সিং গোপন রাখায় নির্বাচনী নিরাপত্তা ও প্রকিউরমেন্টে দুর্নীতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা পুলিশদের কার্যকলাপ নথিভুক্ত করবে। যদি কেনাকাটায় দুর্নীতি থাকে, তবে ডিভাইসের গুণগত মান, সফটওয়্যার নিরাপত্তা এবং ডেটা ম্যানিপুলেশনের ঝুঁকি বাড়বে। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা পুলিশের আচরণ নথিভুক্ত করার জন্য এই ক্যামেরাগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্য ও প্রতিক্রিয়া
মিডিয়া রিপোর্ট: Daily Sun ও Bangladesh Pratidin-এ বলা হয়েছে যে, Smart Technologies আবার ফিরে এসেছে এবং দুর্নীতির অভিযোগ পুনরায় উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা প্রকিউরমেন্টে অস্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অফিসিয়াল স্ট্যাটাস: নির্বাচন কমিশন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনও কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য আসেনি। প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল অক্টোবর ২০২৫-এর মধ্যে ক্যামেরা সরবরাহ ও পুলিশের প্রশিক্ষণ। জানুয়ারি ২০২৬-এ সরকার টিজার প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, ক্যামেরা ব্যবহার করে ঘটনাসমূহের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঝুঁকি: বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা পুলিশদের আচরণ নথিভুক্ত করবে এবং অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। দুর্নীতি থাকলে ক্যামেরার কার্যকারিতা, সফটওয়্যার নিরাপত্তা এবং ডেটা সুরক্ষা সংকটে পড়তে পারে।
এই অভিযোগ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে উঠেছে, যা জনমনে সন্দেহ তৈরি করতে পারে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে সকল পক্ষের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য।
সূত্র: @Defres360 পোস্ট, Daily Sun, Bangladesh Pratidin, TBS News, Daily Observer







