জামায়াতের ঘোষণা: ক্ষমতায় গেলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করা হবে

১১ দলীয় জোটের যুবক-কেন্দ্রিক বার্তা, নির্বাচনের মাত্র ৪ দিন আগে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি!

টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডায় এক নির্বাচনি জনসভায় ঘোষণা দিয়েছেন যে, ১১ দলীয় জোট (জামায়াত নেতৃত্বাধীন) ক্ষমতায় গেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যুবক বন্ধুরা, তোমরা প্রস্তুত হয়ে যাও বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য। নাহিদ ইসলামকে আমরা প্রার্থী করেছি। জনগণের রায় অনুযায়ী ইনসাফের বাংলাদেশের সরকার গঠিত হলে, নাহিদ ইসলাম একজন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আমরা হাত ধরে একসঙ্গে কাজ করব। এই নাহিদ ইসলামরা আগামী দিনের বাংলাদেশ নামের জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করবে, আর আমরা পেছনের সিটে প্যাসেঞ্জার হিসেবে থাকব।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “একটি দল দুর্নীতি দমন করার কথা বলছে, কিন্তু ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দিয়েছে। চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ লাল কার্ড দেখাবে।”

নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এটি জামায়াত-এনসিপির নির্বাচনি সমঝোতার অংশ, যেখানে তিনি এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন।

জামায়াতের এই ঘোষণা জোটের যুবক-কেন্দ্রিক ভাবমূর্তিকে তুলে ধরছে এবং নাহিদ ইসলামকে ভবিষ্যত নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করছে। নাহিদ ইসলামকে “ক্যাপ্টেন” হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত নিজেদের “প্যাসেঞ্জার” হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা যুব প্রজন্মের প্রতি আস্থা প্রকাশ করছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া

সোশ্যাল মিডিয়ায় (ফেসবুক, টুইটার/X) সমর্থকরা এটিকে “ইনসাফের বাংলাদেশ” গঠনের ধাপ হিসেবে দেখছেন।

কিছু সমালোচক মনে করছেন, এটি জামায়াতের ভাবমূর্তি নরম করার কৌশল, যেখানে যুব নেতৃত্বকে সামনে রাখা হয়েছে।

নির্বাচনের মাত্র ৪ দিন আগে এই ঘোষণা জোটের ভোটারদের উৎসাহিত করতে পারে, বিশেষ করে যুবকদের মধ্যে।

জোটের বিজয় হলে নাহিদ ইসলামের মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথও স্পষ্ট হতে পারে বলে গুঞ্জন আছে।

এই ঘোষণার মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। জোটের বিজয় হলে নাহিদ ইসলামের মন্ত্রিত্বের সম্ভাবনা এখন স্পষ্ট।

সূত্র: আমার দেশ অনলাইন, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, জুগান্তর, ইত্তেফাক, সময় টিভি, আরটিভি, প্রথম আলো, বিএসএস