নারী হেনস্তা ও হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নারী জমায়েতের দাবি মহিলা জামায়াতে ইসলামীর।

টুইট প্রতি‌বেদক: নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের উদ্যোগে একটি বিশাল প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মিছিল সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর হেনস্তা, হামলা, নির্যাতন এবং দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের অবমাননার প্রতিবাদে আয়োজিত হয়।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে হাজার হাজার নারী অংশগ্রহণ করে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেছেন এবং নারীদের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি নজিপুর পৌর এলাকার ধামইরহাট রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিপুল সংখ্যক নারী এতে অংশগ্রহণ করেন। বেলা ১১টায় মিছিল শুরু হয়ে শেষ হয় স্থানীয় এলাকায়।

স্থানীয়রা দাবি করেছেন, পত্নীতলা উপজেলার ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামীর এত বড় নারী জমায়েত এর আগে কখনো দেখা যায়নি। অংশগ্রহণকারী নারীরা দাঁড়িপাল্লা মার্কায় (জামায়াতের নির্বাচনী প্রতীক) ভোট প্রার্থনা করে স্লোগান দেন এবং নারীদের ওপর সংঘটিত হেনস্তার তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পত্নীতলা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সভানেত্রী জেলেনা পারভিন বলেন, “ভোট চাওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। এই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে আমাদের বাইরে বের হতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ভোট দিতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত।”

নওগাঁ জেলা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সভানেত্রী হাবিবা সুলতানা বলেন, “জামায়াতে ইসলামী লোক দেখানো কাজ করে না। জামায়াতকে ভালোবাসে এমন হাজার হাজার নারী আছে। আমাদের ভালোবাসা অন্তরে। আজকের এই হাজারো নারীর অংশগ্রহণ পত্নীতলাবাসীর সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিয়েছে।”

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পত্নীতলা উপজেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক তানজিলা খাতুন, নারী নেত্রী নার্গিস বেগম, মনিরা আকতার, আমিনা আকতারসহ অনেকে।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রভাষক আব্দুল গফুর (প্রায় ৩০ বছর ধরে নজিপুরে বসবাসকারী) বলেন, “আমার জীবনে এত নারীর একত্রিত হওয়া আগে কখনো দেখিনি।”

আরেক স্থানীয় চার্জার ভ্যান চালক আব্দুস ছালাম বলেন, “আমি মনে করতাম জামায়াতে ইসলামীতে শুধু পুরুষদের অংশগ্রহণ আছে। আজ সেই ধারণা ভেঙে গেছে। এত বড় নারী জমায়েত আগে দেখিনি।”

এই ঘটনা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (২০২৬) প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, যেখানে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীদের ওপর হেনস্তা ও বাধার অভিযোগ তুলে ধরেছে।

সারাদেশে একই ধরনের প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশ ও নারী অধিকার নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

বগুড়া (শেরপুর)

বগুড়ায় মহিলা বিভাগের উদ্যোগে নারীদের হেনস্তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেরপুর উপজেলায় ধনটপুর এলাকা থেকে বিশাল মিছিল বের হয়, যেখানে দেশব্যাপী হেনস্তার প্রতিবাদ জানানো হয়।

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ-২ আসনে ৪ ফেব্রুয়ারি বাজার স্টেশন মুক্তির সোপান থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। নারী কর্মীদের ওপর হামলা, হেনস্তা ও কটূক্তির প্রতিবাদ জানানো হয়।

বাগেরহাট

৭ ফেব্রুয়ারি সকালে স্বাধীনতা উদ্যান থেকে মিছিল বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। বক্তারা নারী নিরাপত্তার হুমকি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার সমালোচনা করেন। মোংলা উপজেলাতেও একই ধরনের মিছিল হয়েছে।

ঢাকা

রাজধানীর মিরপুর-১০ (ফলপট্টি মোড়) থেকে কাজীপাড়া পর্যন্ত মহিলা জামায়াতের মিছিল হয়েছে। ঢাকা-১৫ আসনে শতশত নারী জড়ো হয়ে সমাবেশ করেছেন। মিছিলে নারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোটের আহ্বান জানানো হয়।

অন্যান্য এলাকা

খুলনা, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় একই ধরনের প্রতিবাদ দেখা গেছে। জামায়াতের নারী কর্মীরা প্রচারণায় বাধা, মারধর ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ। কোথাও কোথাও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

এসব প্রতিবাদের মূলে রয়েছে নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীদের ওপর বাধা ও হেনস্তা। এছাড়া ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে নারীবিরোধী পোস্ট ছড়ানোর ঘটনায় (পরে জামায়াত দাবি করে অ্যাকাউন্ট হ্যাকড) ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। জামায়াত আমির পরে ক্ষমা চেয়েছেন এবং নারীদের সম্মান রক্ষার কথা বলেছেন।

এই ঘটনাগুলো নির্বাচনী পরিবেশ, নারী অধিকার ও রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। জামায়াত দাবি করছে, এসব হেনস্তা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ।