আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোপন বৈঠক: জামায়াতের হুঁশিয়ারি

ভোটের আগেই জামায়াত-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘাত।
টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতের মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এখন অস্বচ্ছ এবং ভোট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ চলছেই।
জুবায়ের অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোপন বৈঠক করছে এবং প্রার্থীদের ওপর হুমকি দিচ্ছে।
তিনি বিশেষ করে সিলেট-১ ও কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে জামায়াতের সিনিয়র নেতা ড. হামিদুর রহমান আযাদ প্রার্থী। জুবায়ের দাবি করেন, এসব বৈঠকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ওপরও চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা হয়। বিশেষ করে ঢাকা-১ আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রচারণায় অনিয়ম এবং ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জুবায়েরের মতে, এ ধরনের কার্যকলাপের কারণে ভোটের নিরপেক্ষতা সংকটাপন্ন হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বঙ্গভবনের কর্মকর্তা জামিনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জামায়াতের দাবি, ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেলের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের কারণে আটক মোহাম্মদ ছরওয়ার আলমকে জামিন দেওয়া হয়েছে বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের প্রভাবের কারণে। জুবায়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এটি ভবিষ্যতে নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি করতে পারে।
জুবায়ের আরও অভিযোগ করেন, সারাদেশে হামলা, চাঁদাবাজি ও অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সালাউদ্দিন আম্মারসহ শতাধিক নেতার ওপর হামলা হয়েছে। এছাড়া যুবদল, ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ নেতাদের বাড়ি থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জামায়াতের নারী ভোটকর্মীদের ওপরও হামলা ও প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হ্যাকিং ও সাইবার হামলার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জামায়াতের নির্বাচন পরিচারক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম বলেন, একটি গোয়েন্দা সংস্থা মিডিয়ায় হ্যাকিং স্ক্রিপ্ট সরবরাহ করেছে, যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। তিনি নিশ্চিত করেন, সময়মতো এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
জানা যায়, জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট ৩১ জানুয়ারি হ্যাক হয়। ৩-৪ ফেব্রুয়ারি ডিবি কর্মকর্তারা ছরওয়ার আলমকে আটক করেন। তবে ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে ৫,০০০ টাকা বন্ডে জামিন দেন। জামায়াত এই জামিনকে প্রভাবিত বলে মনে করছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন মাসুদ এবং ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদ উপস্থিত ছিলেন।
জুবায়েরের সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে জামায়াত মনে করছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচন অস্বচ্ছ ও প্রভাবিত হতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।






