ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যাখ্যা

যমুনা এলাকায় নিষেধাজ্ঞা ভেঙে অগ্রসর হলে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার; গুলি ছোড়ার অভিযোগ নাকচ, জাতিসংঘে চিঠি পাঠানোর ঘোষণা।
টুইট প্রতিবেদক: শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীতে চলমান আন্দোলন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বিস্তারিত বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকা জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হওয়ায় সেখানে আগে থেকেই সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ছিল। তা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথম পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে পড়ে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এ সময় কোনো ধরনের গুলি ছোড়া হয়নি এবং আগ্নেয়াস্ত্র বা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে। বিভিন্ন মাধ্যমে যে মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে, সরকার তা অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে।
আহতদের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাঁদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।
সরকার পুনরায় জানিয়েছে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে তারা বদ্ধপরিকর। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
বিবৃতিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গেও গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, বর্তমান সময়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন বাংলাদেশের দিকে। ইতোমধ্যে বহু বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন। এ অবস্থায় সরকার সকল পক্ষকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক উল্লেখ করে সরকার বলেছে, দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই সুযোগ রক্ষায় কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।






