বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন প্রতিশ্রুতির ঘোষণা। ৯ প্রধান প্রতিশ্রুতি ও ৫১ দফা।
টুইট প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তাদের নির্বাচনি ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে।
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করেন, যা তার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হলো। অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “এবার নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার সময়, দেশ পুনর্গঠনের সময়।” তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, প্রায় ২০ কোটি মানুষের জন্য বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সময় এসেছে। তিনি তার পূর্বের “I have a plan” বার্তার প্রতিফলন এই ইশতেহারে দেখানো হয়েছে বলে জানান।
ইশতেহারের মূল স্লোগান ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ এবং ট্যাগলাইন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এটি পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত এবং মোট ৫১টি দফা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দলটি ৯টি মূল প্রতিশ্রুতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
ফ্যামিলি কার্ড চালু: দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য মাসিক ২,৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহায়তা, যা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।
কৃষক কার্ড: কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা ও রাষ্ট্রীয় বিপণন সুবিধা।
৪ কোটিরও বেশি তরুণের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন।
পরিবেশ সুরক্ষা: ২০,০০০ কিলোমিটার নদী-খাল পুনঃখনন এবং ২৫ কোটি গাছ রোপণ।
অর্থনৈতিক লক্ষ্য: ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা।
সুশাসন, দুর্নীতি নির্মূল, ভোটের মর্যাদা রক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নারী নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ।
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলা, জেলা-উপজেলায় অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ।
ইশতেহারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং তারেক রহমানের ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
দলটি দাবি করেছে, এটি জনকল্যাণমুখী, বাস্তবসম্মত এবং যুগোপযোগী।
অনুষ্ঠানটি কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় এবং লাইভ সম্প্রচারিত হয়েছে বিভিন্ন মিডিয়ায়। বিএনপি এই ইশতেহারকে “রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে নতুন চুক্তি” হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেয়।






