পারস্য উপসাগরে দুই বিদেশি তেল ট্যাঙ্কার জব্দ ইরানের

জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগে IRGC নৌবাহিনীর অভিযান, ১৫ বিদেশি ক্রু আটক।

টুইট প্রতি‌বেদক | আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগরে দুটি বিদেশি তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর নৌবাহিনী। ইরানের দাবি, জাহাজ দুটি দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।

ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও IRGC সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে এই অভিযান চালানো হয়। একই দিনে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম AP News, The Jerusalem Post, Times of Israel-সহ একাধিক গণমাধ্যম ঘটনাটি নিশ্চিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

কোথায় ও কীভাবে জব্দ

IRGC নৌবাহিনী জানায়, পারস্য উপসাগরের ইরানের ফারসি দ্বীপ (Farsi Island)-এর কাছাকাছি এলাকায় ট্যাঙ্কার দুটি আটক করা হয়। জব্দের পর জাহাজ দুটি ইরানের বুশেহর (Bushehr) বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী, যেখান দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন হয়ে থাকে।

অভিযোগ ও জব্দকৃত জ্বালানি

IRGC-এর অভিযোগ অনুযায়ী, জাহাজ দুটি ফুয়েল স্মাগলিং নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করছিল। অভিযানের সময় ট্যাঙ্কার দুটিতে ১০ লাখ লিটারেরও বেশি জ্বালানি তেল (আনুমানিক ৬,৩০০ ব্যারেল ডিজেল) উদ্ধার করা হয়েছে।

IRGC-এর আঞ্চলিক কমান্ডার জেনারেল হেইদার হোনারিয়ান মোজাররাদ বলেন, “গোয়েন্দা তথ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নজরদারির ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জাহাজগুলো কয়েক মাস ধরে অবৈধ জ্বালানি পাচারে যুক্ত ছিল।”
ক্রুদের অবস্থা

দুটি জাহাজে মোট ১৫ জন বিদেশি ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের সবাইকে ইরানের বিচার বিভাগের (Judicial Authorities) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্রুদের জাতীয়তা কিংবা জাহাজগুলোর পতাকা (Flag State) সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে উত্তেজনা চলছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে। এর আগে IRGC-এর এক সাবেক কর্মকর্তা হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “massacre and hell”-এর জায়গা হতে পারে বলে হুমকি দেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এমন পদক্ষেপ বিশ্ব তেল বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। গত কয়েক বছরে ইরান একাধিকবার অনুরূপ অভিযোগে বিদেশি জাহাজ জব্দ করেছে।

ক্রুদের পরিচয়, জাহাজের মালিকানা এবং কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আগামী দিনে আরও তথ্য প্রকাশ পেতে পারে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদ সূত্র: ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC), অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), দ্য জেরুজালেম পোস্ট, টাইমস অব ইসরায়েল।