ক্রিকেট নয়, বার্তাই মুখ্য: বাংলাদেশের জন্য পাকিস্তান কী বার্তা দিল?

প্রতীকী হলেও কূটনৈতিক গুরুত্ব: এই সমর্থন হয়তো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ফিরিয়ে আনেনি, কিন্তু এটি জানিয়ে দিয়েছে—বাংলাদেশের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আলোচনার টেবিলে রয়েছে।

সম্পাদকীয়
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | বৃহস্পতিবার: টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান যে বার্তা দিয়েছে, তা নিছক ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নয়—এটি একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান।

দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়া ইতিহাসে এমন সিদ্ধান্ত বিরল, যেখানে মাঠের বাইরে দাঁড়িয়েই একটি রাষ্ট্র বিশ্ব রাজনীতির দিকে তাকিয়ে কথা বলে।

বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাতিলের ঘটনার পর পাকিস্তানের এই অবস্থান মূলত একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলো কি সত্যিই রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারছে? নাকি অর্থনীতি ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রের স্বার্থই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করছে?

পাকিস্তান দাবি করছে, তারা খেলাধুলায় রাজনীতি আনছে না; বরং রাজনীতির কারণে সৃষ্ট বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে আইসিসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার প্রতিবাদ হিসেবেই এই বয়কট—এমন ব্যাখ্যাই দিচ্ছে ইসলামাবাদ। এতে পাকিস্তান একদিকে যেমন আঞ্চলিক সংহতির বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে তেমনি ভারতকেন্দ্রিক ক্রিকেট ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তুলেছে।

তবে বাস্তবতা হলো, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শুধু দুই দেশের নয়—এটি বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আর্থিক ইভেন্ট। এই ম্যাচ না হওয়া মানে আইসিসির রাজস্ব, ব্রডকাস্টারদের বিনিয়োগ এবং ক্রিকেটের বৈশ্বিক দর্শকসংস্কৃতিতে বড় ধাক্কা। ফলে পাকিস্তানের সিদ্ধান্তকে আদর্শিক বললেও এর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক মূল্য দিতে হবে—এটাই স্বাভাবিক।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেট কখনোই পুরোপুরি খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সীমান্ত রাজনীতি, কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও জাতীয় আবেগ—সবকিছু মিলিয়েই এখানে ক্রিকেটের মানচিত্র আঁকা হয়।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকে যায়—আইসিসি কি সত্যিই সমতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে? নাকি শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর প্রভাবেই বিশ্ব ক্রিকেট পরিচালিত হবে? পাকিস্তানের বয়কট সেই প্রশ্নটিকেই নতুন করে সামনে এনেছে।

ক্রিকেট মাঠে হয়তো একটি ম্যাচ হবে না, কিন্তু বিশ্ব রাজনীতির মাঠে পাকিস্তান তার বক্তব্য স্পষ্ট করেই রেখে গেল। একা নও—আমরা পাশে আছি।