দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন আপনারা: আর্মির উদ্দেশে জামায়াত প্রার্থীর বক্তব্যে বিতর্ক

ক্যান্টনমেন্ট চেকপোস্টে জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে মিলিটারি পুলিশের বিতর্ক: ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তীব্র সমালোচনা!

টুইট প্রতি‌বেদক: ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের একটি চেকপোস্টে মিলিটারি পুলিশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান-এর বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রায় ৭–৮ মিনিট দৈর্ঘ্যের ওই ভিডিওটি (কিছু সংক্ষিপ্ত ক্লিপ ২–৪ মিনিটের) মূলত মোবাইল ফোন ও মিলিটারি পুলিশের বডি ক্যাম ফুটেজ থেকে ধারণ করা। ভিডিওটি ইতোমধ্যে X (সাবেক টুইটার), ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউব শর্টস/রিলস-এ ভাইরাল হয়েছে।

কী দেখা গেছে ভিডিওতে

ভিডিওর শুরুতে দেখা যায়, ডা. এস এম খালিদুজ্জামান একটি গাড়িবহর নিয়ে ক্যান্টনমেন্টের চেকপোস্টে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় তার সঙ্গে একজন অস্ত্রধারী গানম্যান উপস্থিত ছিলেন। চেকপোস্টে দায়িত্বরত মিলিটারি পুলিশ শান্তভাবে জানান, ক্যান্টনমেন্ট একটি রেস্ট্রিক্টেড এরিয়া, যেখানে বেসামরিক ব্যক্তিদের অস্ত্র বা গানম্যান নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। নিরাপত্তার স্বার্থে এই নিয়ম সবার জন্যই প্রযোজ্য বলে জানানো হয়।

মিলিটারি পুলিশ বারবার ‘স্যার’ সম্বোধন করে সম্মান বজায় রেখে নিয়ম ব্যাখ্যা করলেও ভিডিওতে দেখা যায়, ডা. খালিদুজ্জামান ধীরে ধীরে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি একাধিকবার নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি “তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী” বা “তারেক জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী”। ভিডিওতে অন্তত চারবার এ বক্তব্য দিতে শোনা যায়, যা সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত অংশ হয়ে উঠেছে।

সেনাবাহিনী নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য

ভিডিওর মধ্যভাগে ডা. খালিদুজ্জামান সেনাবাহিনী সম্পর্কে একাধিক আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করেন বলে দেখা যায়।

এর মধ্যে রয়েছে—

“সেনাবাহিনী জিহ্বা দিয়ে চেটে রাস্তা তারেক জিয়ার জন্য পরিষ্কার করে ফেলছেন।”
“দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন আপনারা।”
“অফিসাররা গিয়ে তাদের পা ধরে বসে থাকতো।”

এসব মন্তব্যকে অনেকেই সেনাবাহিনীর প্রতি অশালীন ও অবমাননাকর বলে অভিহিত করেছেন। ভিডিওতে মিলিটারি পুলিশ সদস্যদের পুরো সময়জুড়ে শান্ত, সংযত ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখতে দেখা যায়। তারা কোনো ধরনের উত্তেজক বক্তব্যে জড়াননি।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ ও শেষ পর্ব
একপর্যায়ে চেকপোস্টে দায়িত্বরত মিলিটারি পুলিশ বিষয়টি তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোনে অবহিত করেন। ফোনে কথা বলার সময়ও ডা. খালিদুজ্জামান ওই কর্মকর্তার প্রতি অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন এবং সেনাপ্রধানের কাছে অভিযোগ করার কথাও বলেন।

ভিডিওর শেষ অংশে মিলিটারি পুলিশ জানায়, পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বডি ক্যাম চালু করা হচ্ছে। এ কথা শোনার পর ডা. খালিদুজ্জামান আর বিতর্কে না গিয়ে চেকপোস্ট এলাকা ত্যাগ করেন এবং ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ করেননি।

প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পরিস্থিতি

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর কাছ থেকে এমন আচরণকে অশোভন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে মিলিটারি পুলিশের ধৈর্য ও পেশাদার আচরণের প্রশংসাও করেন অনেকে।

ঘটনার পর ডা. এস এম খালিদুজ্জামান তার ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন মহল থেকে তার আচরণের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার আহ্বানও আসে।

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টসহ দেশের সব ক্যান্টনমেন্ট এলাকাতেই বেসামরিক ব্যক্তিদের জন্য অস্ত্র ও গানম্যান প্রবেশে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং স্ট্যান্ডার্ড নিরাপত্তা নীতিমালার অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি নির্বাচনী প্রচারণার সময় শিষ্টাচার, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা কখনোই আইন ও নিয়মের ঊর্ধ্বে হতে পারে না—এই বার্তাই ভিডিওটি নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষায়, ভোটাররা শেষ পর্যন্ত প্রার্থীর বক্তব্য নয়, বরং আচরণ, সংযম ও দায়িত্ববোধ দিয়েই নেতৃত্বকে বিচার করেন।

টুইটনিউজ২৪-এর পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ

টুইটনিউজ২৪ সর্বদা সত্য, নিরপেক্ষতা এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মানের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামানের সাম্প্রতিক ক্যান্টনমেন্ট চেকপোস্টে ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং তার ভিডিওতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি দেওয়া আপত্তিকর, অবমাননাকর ও মানহানিকর মন্তব্যের (যেমন “জিহ্বা দিয়ে রাস্তা চেটে পরিষ্কার করা”, “পা ধরে বসে থাকা” ইত্যাদি) তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এই ঘটনা সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত আচরণের ফল—জামায়াতে ইসলামী বা দলের অন্য কোনো নেতা-কর্মীর সঙ্গে এর কোনো সরাসরি যোগসূত্র নেই। তবুও, একজন রাজনৈতিক দলের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্বের অভিভাবক, জনগণের গর্ব এবং সকলের সম্মানের প্রতীক। তাদের প্রতি এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ ভাষা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ শুধু ব্যক্তির নয়, সমগ্র রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য লজ্জাজনক।

আমরা মনে করি:
ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তা নিয়ম সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য—কোনো রাজনৈতিক পরিচয় এর ঊর্ধ্বে নয়।

“তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী” বলে বারবার পরিচয় দেওয়া এবং সেনাবাহিনীকে টেনে অপমান করা কোনো রাজনৈতিক লড়াইয়ের অংশ হতে পারে না; এটা ন্যূনতম শিষ্টাচারের লঙ্ঘন।

ঘটনাটি পুরনো হলেও (আইএসপিআর-এর মতে মীমাংসিত), ভিডিও পুনরায় ভাইরাল হওয়া এবং তার প্রভাব জাতীয় ঐক্য ও সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

টুইটনিউজ২৪-এর পক্ষ থেকে দাবি করছি

ডা. খালিদুজ্জামানের পূর্ণাঙ্গ, নিঃশর্ত ও প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা উচিত সেনাবাহিনী ও জাতির কাছে।

রাজনৈতিক প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় শিষ্টাচার, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হবে।

এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যেন না ঘটে, সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে।

জামায়াতে ইসলামী বা অন্য কোনো দলের দায় এতে নেই—কিন্তু রাজনীতিতে এমন আচরণের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সকলের দায়িত্ব। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অসম্মান করা মানে দেশকে অসম্মান করা। টুইটনিউজ২৪ — সত্যের পক্ষে, দেশের পক্ষে।

ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব) ২-৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

খালিদুজ্জামান ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (মঙ্গলবার) দুপুরে ফেসবুকে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান এবং বলেন, “ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের”।