২ ঘণ্টা লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই সাঁতরে তীরে ফিরে মা ও দুই ভাইবোনকে বাঁচালো ১৩ বছরের কিশোর

টুইট ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের জিওগ্রাফ বে এলাকায় কিশোরটি তার ৪৭ বছর বয়সী মা, ১২ বছরের ভাই ও ৮ বছরের বোনকে নিয়ে প্যাডলবোর্ড ও কায়াকিং করছিল। হঠাৎ করে শক্তিশালী বাতাস বইতে শুরু করলে তাদের ভাসমান যানগুলো গভীর সমুদ্রে ভেসে যেতে থাকে।
পরিস্থিতির ভালো নয়। তাই খুব দ্রুতই তীরে ফিরে সাহায্য আনতে সিদ্ধান্ত নেয় কিশোরটি। শুরুতে প্রায় ২ ঘণ্টা কায়াক চালানোর চেষ্টা করলেও মাঝপথে সেটিতে পানি ঢুকে পড়ে। প্রথম দুই ঘণ্টা লাইফ জ্যাকেট পরে কায়াক চালায় ওই কিশোর। এরপর সে উপলব্ধি করতে পারে যে জ্যাকেট পরে তীরে পৌঁছানো কষ্টসাধ্য। তাই, বাকি ২ ঘণ্টা লাইফ জ্যাকেট খুলে সাঁতরে তীরে পৌঁছাতে সফল হয় ওই কিশোর।
মৃত্যুকে ভয় না করে উত্তাল সমুদ্রে টানা কয়েক ঘণ্টা সাঁতার কেটে নিজের মা ও দুই ভাই-বোনের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয় মাত্র ১৩ বছর বয়সী কিশোর। তার এই সাহসিকতাকে উদ্ধারকারী সংস্থা ন্যাচারালিস্ট ভলান্টিয়ার মেরিন রেসকিউ গ্রুপ ‘অতিমানবীয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়।
ন্যাচারালিস্ট ভলান্টিয়ার মেরিন রেসকিউ গ্রুপের কমান্ডার পল ব্রেসল্যান্ড জানিয়েছেন, প্রথম দুই ঘণ্টা কিশোরটি লাইফ জ্যাকেট পরে সাঁতার কেটেছিল। কিন্তু পরে সে বুঝতে পারে, লাইফ জ্যাকেটের কারণে তার গতি কমছে। তখন সেটি খুলে দিয়ে আরও দুই ঘণ্টা লাইফ জ্যাকেট ছাড়া সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছায়।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কিশোরটি উদ্ধারকারী সংস্থাকে সংকেত দিতে সক্ষম হয়। কুইন্ডালাপ বিচ এলাকা থেকে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। রাত সাড়ে আটটার দিকে একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার সমুদ্রের প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে ভাসমান প্যাডলবোর্ডে থাকা মা ও দুই শিশুকে শনাক্ত করে। পরে একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারী নৌযান তাদের নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনে।
পুলিশ জানায়, কিশোরের দৃঢ়তা ও সাহসিকতার কারণে তার মা ও দুই ভাইবোনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সমুদ্রের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে এমন সাহসিকতার নজির বিরল।






