সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাই কমিশনারের সাক্ষাৎ: প্রতিরক্ষা জোট শক্তিশালী হচ্ছে

ছবি: এক্স

প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন। আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহায়তা বাড়ছে।

টু্ইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দীর্ঘদিনের এবং ক্রমশ গভীরতর হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকেই উভয় দেশের সম্পর্ক উষ্ণ ও ঘনিষ্ঠ। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশে ব্রিটিশ মিলিটারি অ্যাসিস্ট্যান্স টিম (BMAT) দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধিকাংশ জাহাজ রয়্যাল নেভি থেকে সংগ্রহিত বা প্রভাবিত, যা নৌ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এছাড়া যৌথ প্রশিক্ষণ, পেশাদার সামরিক শিক্ষা, নির্দেশনামূলক বিনিময়, ওয়ার্কশপ এবং সক্ষমতা উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়।

২০২২ সালে প্রথম প্রতিরক্ষা সংলাপ (Defence Dialogue) অনুষ্ঠিত হয়। এতে যৌথ মহড়া, সরঞ্জাম সরবরাহ, প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা ক্রয় নিয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাজ্য ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা সন্ত্রাসবিরোধী, নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা সমর্থন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে।

২০২৫ সালে বাংলাদেশের সামরিক প্রতিনিধি দল যুক্তরাজ্যে গিয়ে ১৯তম ফুল স্পেকট্রাম এয়ার ডিফেন্স সামিটে অংশ নেয় এবং উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পর্যালোচনা করে। এটি Forces Goal 2030-এর অধীনে আকাশ প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের অংশ।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ হাই কমিশনার হি.এক্স. সারাহ কুক সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ Forces Goal 2030-এর অধীনে সামরিক আধুনিকীকরণ চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাজ্য প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করছে। এই সহযোগিতা শুধুমাত্র সামরিক নয়; ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতে যৌথ মহড়া, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ২০২৪ সালের ২৩ জুন থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

এই সৌজন্য সাক্ষাৎটি বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।